ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ক্ষোভের স্রোত (social media outrage)। বহু নেটিজেন তিন যুবকের নির্লজ্জ আচরণের তীব্র নিন্দা করেন।

ভাইরাল ভিডিও
শেষ আপডেট: 8 February 2026 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বিতর্ক ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)। এক তরুণীর পিছু নেওয়া এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি- এই পুরো ঘটনা ধরা পড়েছে তাঁরই তোলা একটি ভিডিওতে। চিরো নামে উত্তর-পূর্ব ভারতের ওই তরুণী (Northeast woman harassment) ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও আলোচনার ঝড়। তাঁর অভিযোগ, তিনি দেখতে একটু আলাদা বলেই ওই তিন যুবক মনে করেছিলেন তিনি হয়তো হিন্দি বোঝেন না তাই তাঁকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য (India catcalling video) করতে থাকে।
ঘটনার দিন মন্দিরে যাচ্ছিলেন চিরো। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ভারতীয় পুরুষরা যখন মেয়েদের একা হাঁটতে দেখে তাঁরা যেন এই পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত প্রজাতি হয়ে যান। আমি মন্দিরে যাচ্ছি, আর এই লোকগুলো আমাকে থেকে থেকে বিরক্ত করছে।” ভিডিওতেই দেখা যায়, তিন যুবক তাকে অনুসরণ করছে (3 men follow woman temple), জোরে জোরে হিন্দি গান গাইছে, হাসাহাসি করছে এবং ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মন্তব্যও করছে।' চিরো জানান, এই গোটা সময়টাই তিনি অন্তত ভয় পেয়েছিলেন, পরে বন্ধুরা পৌঁছনোর পরই স্বস্তি পান।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর কিছু সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে (viral harassment video)। কেউ কেউ বলেন, ‘পাবলিসিটির জন্য বানানো ভিডিও’। এর জবাবে চিরোর স্পষ্ট উত্তর, তিনি ঘটনার বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, এর মাধ্যমে অন্যদের সতর্ক করতে চেয়েছেন। তিনি কেন হাসিমুখে ভিডিও করেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নিজেকে শান্ত রাখার জন্য এবং পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত না করতে। তাঁর কথায়, “মানুষ কি চায় আমি কাঁদতে কাঁদতে ভিডিও করি?”
ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ক্ষোভের স্রোত (social media outrage)। বহু নেটিজেন তিন যুবকের নির্লজ্জ আচরণের তীব্র নিন্দা করেন। তাঁদের প্রশ্ন, যে দেশে রাস্তায় প্রকাশ্যে এমন হয়রানি করতেও কেউ ভয় পায় না, সেখানে একজন মেয়ে কতটা নিরাপদ?
একজন লিখেছেন, “ভারতীয় পুরুষদের সমস্যা শিক্ষা নয়, অভ্যাস, আচরণ, পরিবেশ আর ভুল মূল্যবোধ।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “ক্যামেরা সামনে থাকলেও এদের ভয় নেই। এগুলো চলতে থাকলে দেশ কখনও উন্নতি করতে পারবে না।”
আরও একজনের মন্তব্য, “এদের এমন স্পর্ধা ভয়ঙ্কর।” চতুর্থ এক ব্যবহারকারী লেখেন, “আমি হলে ভিডিও করতে পারতাম না। এত সাহস দেখানোর জন্য চিরো সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। ভয় হচ্ছে, বিষয়টা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে এখন আর কারও লজ্জা নেই, কারণ সিস্টেমও এদের শাস্তি দেয় না।”