দ্রুত তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা অনরণ্য ও কিশোরটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুদীপ্তা কর্মকার গুরুতর আহত।

কোটায় বাঙালি পড়ুয়ার মৃত্যু
শেষ আপডেট: 8 February 2026 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুহূর্তেই জীবন বদলে যেতে পারে, রাজস্থানের কোটায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা (Kota restaurant roof collapse) যেন সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিল। রেস্তরাঁয় ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ল ছাদ। কোচবিহারের ছাত্র অনরণ্য কর্মকারের মৃত্যু (Cooch Behar student death) হল ঘটনাস্থলেই, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছেন তাঁর মা। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে শোকের ছায়া কোচবিহারের কর্মকার পরিবারে।
কোচবিহারের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরুষোত্তম পাড়ার বাসিন্দা অনরণ্য কর্মকার উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে রাজস্থানের কোটায় গিয়েছিলেন পড়াশোনার জন্য (Cooch Behar student death)। তাঁর সঙ্গে বেশিরভাগ সময় থাকতেন মা সুদীপ্তা কর্মকার। বাবা অভিজিৎ কর্মকার চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, তিনিও মাঝেমধ্যেই ছেলের কাছে কোটায় যেতেন। কয়েকদিন আগেই তিনি কোচবিহারে ফিরে এসেছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যায় অনরণ্য মাকে নিয়ে কোটার একটি রেস্তরাঁয় যান। সেখানে প্রবেশ করার মুহূর্তেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রেস্তরাঁর ছাদ আচমকা ধসে পড়ে তাঁদের উপর (Cooch Behar student death)। মা-ছেলের পাশাপাশি সেখানে থাকা ১৫ বছরের এক কিশোরও গুরুতর জখম হয়।
দ্রুত তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা অনরণ্য ও কিশোরটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুদীপ্তা কর্মকার গুরুতর আহত। তাঁর পায়ে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে এবং চিকিৎসকদের আশঙ্কা- অস্ত্রোপচারের ফলে হয়তো তাঁর একটি পা বাদ দিতে হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেস্তরাঁয় তখন মেরামতির কাজ চলছিল। অসাবধানতা বা ত্রুটির কারণে ছাদের চাঙর ভেঙে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনরণ্য ও তাঁর মায়ের ঘাড় ও পায়ে সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে (Mother injured in roof collapse)।
দুর্ঘটনার খবর কোচবিহারে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে কর্মকার পরিবারের বাড়িতে। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, অনরণ্য শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে ছিল। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরই ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিতে কোটায় যোগ দিয়েছিল। তার মা প্রায়ই তার সঙ্গে থাকতেন, যাতে পড়াশোনায় বাধা না আসে।
পরিবারের সদস্যরা রাতেই কোটার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একদিকে ছেলের মৃত্যু, অন্যদিকে জীবিত মাকে গুরুতর অবস্থায় নিয়ে আসার চিন্তা- সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত তাঁরা। প্রতিবেশীদের কথায়, “এক রাতের মধ্যে কী হয়ে গেল এই বাড়িতে! ভাবলেও গা শিউরে উঠছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। মেরামতির কাজ চলা অবস্থায় নিরাপত্তার মানদণ্ড কতটা মানা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।