বিহারে মধ্যাহ্নভোজ খেয়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ল ৭০ ছাত্রছাত্রী, বমি ও পেটব্যথা নিয়ে ভর্তি হাসপাতালে। খাবারে টিকটিকি পড়েছিল বলে সন্দেহ, তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।

মিড-ডে মিল (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 8 February 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) খেয়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ল প্রায় ৭০ জন ছাত্রী। বিহারের মধেপুরা (Madhepura) জেলার সাহুগড় (Sahugarh) গ্রামের কারু টোলার (Karu Tola) ঘটনা।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বমি, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা—এরকম একাধিক উপসর্গ দেখা দেয় ওই ছাত্রীদের। দ্রুত তাদের সদর হাসপাতালে (Sadar Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। বেশিরভাগ শিশুই স্থিতিশীল, তবে একটি বাচ্চার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
ওই স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহ করে প্যারাস অ্যাগ্রো (Paras Agro) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (Voluntary Organisation)। তাদের তৈরি খাবার খাওয়ার পর মিনিট কয়েকের মধ্যেই কয়েকজন ছাত্রছাত্রী বমি করতে থাকে। কয়েকজনের পেটব্যথা ও অস্বস্তিও হয়। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়ায় স্কুল চত্বরে। অভিভাবকদের সন্দেহ, খাবারের মধ্যে হয়তো টিকটিকি পড়ে গিয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা দফতর (Education Department) এবং স্বাস্থ্য দফতরকে (Health Department) জানায়। শিক্ষকেরা তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবস্থাও করেন। অসুস্থ সব শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। ক্ষোভ উগরে পড়ে স্কুল ও খাবার সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন জেলা শিক্ষা আধিকারিক (District Education Officer) সঞ্জয় কুমার (Sanjay Kumar)। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন, খতিয়ে দেখেন শিশুদের শারীরিক অবস্থা এবং অভিভাবকদেরও আশ্বস্ত করেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, “সকলকেই যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মিড-ডে মিলনের খাবার এনজিও-ই সরবরাহ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
তিনি শেষে জানান, খাবারের গুণমান, সরবরাহ ও বিতরণ—সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। যে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়াই (Food Poisoning) সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট না এলে কোনওরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।