বছরের পর বছর ধরে আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই প্রকল্পে নতুন করে গতি এসেছে। ভারতের প্রাপ্য নদীর জলসম্পদ কাজে লাগানোর ওপর জোর বাড়ানোর সঙ্গেই এই সিদ্ধান্তের যোগ রয়েছে।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিতের পর পাকিস্তানকে কার্যত বার্তা দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) চেনাব নদীর (Chenab River) উপর একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ (Chenab dam project) দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র। বহুদিন ধরে পরিকল্পনায় থাকা সওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে (Sawalkot Hydroelectric Project) এবার বাস্তব অগ্রগতি শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (এনএইচপিসি - NHPC) রামবন জেলায় চেনাব নদীর উপর এই প্রকল্প নির্মাণের জন্য ৫,১২৯ কোটি টাকার টেন্ডার জারি করেছে। এই টেন্ডার ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিতের পর নয়াদিল্লি এবার চুক্তির আওতায় ভারতের প্রাপ্য জলসম্পদ ব্যবহারে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চলেছে।
সওয়ালকোট প্রকল্প থেকে ১,৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। চেনাবের উপর এই প্রকল্প অঞ্চলটির অন্যতম বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই উন্নয়নকে দেখা হচ্ছে, যেখানে সিন্ধুচুক্তির কাঠামোর মধ্যে থেকে ভারতের বরাদ্দ জলসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ড্যাম, টানেল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বিড জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১২ মার্চ থেকে, যা চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, জমা দেওয়া বিড ১৮০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩,২৮৫ দিন - অর্থাৎ বহু বছরের দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ পর্ব সামনে রয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই প্রকল্পে নতুন করে গতি এসেছে। ভারতের প্রাপ্য নদীর জলসম্পদ কাজে লাগানোর ওপর জোর বাড়ানোর সঙ্গেই এই সিদ্ধান্তের যোগ রয়েছে। প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডেও জোগান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, এই প্রকল্প রামবন জেলায় কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড় ভূমিকা নেবে, কারণ প্রকল্পের মূল কাজের বড় অংশ এই জেলাতেই হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তান-সমর্থিত সেই হামলার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে।
১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের তিন নদী - রবি, বিয়াস ও শতদ্রু - ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম দিকের নদী - সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব - থেকে জল ব্যবহারের অধিকাংশ অধিকার পাকিস্তানের হাতে থাকলেও, সেই নদীগুলিতে ভারতের সীমিত ব্যবহারের অধিকার বজায় রয়েছে।