চুক্তি অনুযায়ী চন্দ্রভাগার জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানেরও (Pakistan) ছিল। তবে পহেলগামে হামলার (Pahelgam Attack) পর ইসলামাবাদের (Islamabad) বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে ভারত।

শাহবাজ শরিফ ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 27 December 2025 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত (Sindh Water Treaty) রাখার আবহে চন্দ্রভাগা নদী (Chenab River) ঘিরে আরও এক ধাপ এগোল ভারত (India)। জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) কিশতওয়ারে চন্দ্রভাগার উপর নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ছাড়পত্র দিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষজ্ঞ প্যানেল। পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়ায় দুলহস্তী স্টেজ–২ প্রকল্পের কাজ শুরুর পথে।
চুক্তি অনুযায়ী চন্দ্রভাগার জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানেরও (Pakistan) ছিল। তবে পহেলগামে হামলার (Pahelgam Attack) পর ইসলামাবাদের (Islamabad) বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে ভারত। তার পর থেকেই সিন্ধু উপত্যকায় একাধিক নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা দ্রুত এগোচ্ছে। কিশতওয়ারের দুলহস্তী স্টেজ–২ সেই তালিকারই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
২৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৩,২০০ কোটি টাকা। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসে পরিবেশ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটির ৪৫তম বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থা টেন্ডার জমা দিয়েছে। শীঘ্রই কাজের বরাত চূড়ান্ত হতে পারে।
অনুমোদনের আগে বৈঠকে সিন্ধু জলচুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। চুক্তি অনুযায়ী চন্দ্রভাগার জল বণ্টনের কথা স্মরণ করানো হলেও, প্যানেল জানায় যে ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে চুক্তি স্থগিত রয়েছে— সেই বাস্তবতাকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কিশতওয়ারেই ২০০৭ সাল থেকে চালু রয়েছে ৩৯০ মেগাওয়াটের দুলহস্তী স্টেজ–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। নতুন স্টেজ–২ প্রকল্পটি মূলত তারই সম্প্রসারণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেজ–১ কেন্দ্র থেকে একটি পৃথক নালার মাধ্যমে জল পৌঁছবে স্টেজ–২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে। প্রায় ৩,৬৮৫ মিটার লম্বা ও সাড়ে আট মিটার চওড়া এই নালার জন্য মোট ৬০.৩ হেক্টর জমি প্রয়োজন হবে। তার মধ্যে কিশতওয়ারের দু’টি গ্রামের ৮.২৭ হেক্টর ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করতে হবে সরকারকে (Dulhasti hydel power)।
সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান বার বার আপত্তি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। তবে এখনও পর্যন্ত তাতে বিশেষ ফল মেলেনি। ১৯৬০ সালের এই চুক্তি অনুযায়ী, শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর জল ভারতের জন্য নির্দিষ্ট হলেও, সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জলে পাকিস্তানের অধিকার স্বীকৃত ছিল। পহেলগাম হামলার প্রেক্ষিতে সেই চুক্তিই আপাতত স্থগিত রেখেছে নয়াদিল্লি— আর তারই সুযোগে সিন্ধু উপত্যকায় প্রকল্পের গতি বাড়াচ্ছে ভারত।