নরেন্দ্র মোদী সরকারের (Modi Govt) দাবি গুড গভর্নেন্স ইনডেক্স বা সুশাসন সূচক হল প্রশাসনিক সংস্কার ও জনঅভিযোগ বিভাগ দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির শাসনব্যবস্থার মান পরিমাপ করা হয়।

অটলবিহারী বাজপেয়ী- নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 25 December 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫ ডিসেম্বর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee) জন্ম দিবসকে সুশাসন দিবস হিসাবে পালন করে আসছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার (Narendra Modi)। দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা এবং জনমুখী পরিষেবা প্রচার করাই এই দিনটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের (Modi Govt) দাবি গুড গভর্নেন্স ইনডেক্স বা সুশাসন সূচক হল প্রশাসনিক সংস্কার ও জনঅভিযোগ বিভাগ দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির শাসনব্যবস্থার মান পরিমাপ করা হয়। এটি ১০-টি বিশেষ ক্ষেত্রের বিভিন্ন মাপকাঠির ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থাকে যাচাই করে, যা তথ্যনির্ভর সংস্কার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে তুলনামূলক উৎকর্ষতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মবার্ষিকী স্মরণে (Atal Bihari Vajpayee Birth Anniversary) প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর সুশাসন দিবস পালন করা হয়। তাঁর আদর্শ ছিল দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা এবং সর্বজনীন উন্নয়ন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শাসনের মূল লক্ষ্যই হল প্রতিটি নাগরিকের জীবনকে আরও উন্নত করা। এই উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক গুড গভর্নেন্স ইনডেক্স বা সুশাসন সূচক প্রকাশ করে, যার মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাজের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়। সপ্তাহব্যাপী এই উদযাপনের উদ্দেশ্য জেলা থেকে গ্রাম পর্যন্ত সুশাসনের ধারণা পৌঁছে দেওয়া। বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পের সফল রূপায়ণের ফলে, ভারতের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিকাশের চিত্র আজ স্পষ্ট।
অটলবিহারী বাজপেয়ী (১৯২৪-২০১৮) তিনবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি দেশসেবার এক অনন্য নজির গড়েছেন। গোয়ালিয়রের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া এই জননেতাকে ১৯৯২ সালে পদ্মবিভূষণ এবং ২০১৫ সালে 'ভারত রত্ন' সম্মানে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি গণতান্ত্রিক আদর্শ, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সাম্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন; তাঁর নেতৃত্বেই জাতীয় মহাসড়ক, গ্রামীণ সড়ক যোজনা ও টেলিকম ব্যবস্থার মতো পরিকাঠামোগত বিপ্লব ঘটেছিল। ১৯৯৪ সালে 'সেরা সাংসদ' হিসেবে ভূষিত এই বহুমুখী ব্যক্তিত্বের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার আদর্শকে পাথেয় করেই আজও ভারত সরকার দেশজুড়ে সুশাসন ও জনমুখী পরিষেবাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতে, সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল - এটি অংশগ্রহণমূলক, সর্বসম্মত, দায়বদ্ধ, স্বচ্ছ, সংবেদনশীল, কার্যকর ও দক্ষ, সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং যা সর্বদা আইনের শাসন মেনে চলে।
সুশাসন পরিমাপ সুশাসন সূচক
প্রশাসনিক সংস্কার ও জনঅভিযোগ বিভাগ ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর 'সুশাসন সূচক' চালু করে, যার মূল লক্ষ্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাজের মূল্যায়ন করা এবং তাদের আরও উন্নত হতে উৎসাহিত করা। নাগরিক কল্যাণ, সর্বজনীন উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য সুশাসন অপরিহার্য। এই সূচকটি ১০-টি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মোট ৫৮-টি মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রশাসনিক সাফল্যের মান পরিমাপ করা হয়।
রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির শ্রেণিবিন্যাস
ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নের স্তরের ব্যাপক পার্থক্যের কথা মাথায় রেখে, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনঅভিযোগ বিভাগ সঠিক ও নিরপেক্ষ তুলনার সুবিধার্থে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। ২০২০-২১ সালের সূচক অনুযায়ী এই বিভাগগুলি হল :
গ্রুপ ‘এ’ রাজ্যসমূহ অন্ধ্রপ্রদেশ, গোয়া, গুজরাট, হরিয়ানা, কর্ণাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা।
গ্রুপ ‘বি’ রাজ্যসমূহ বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ।
উত্তর-পূর্ব এবং পার্বত্য রাজ্যসমূহ অরুণাচল প্রদেশ, অসম, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, ত্রিপুরা, উত্তরাখণ্ড। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, লাক্ষাদ্বীপ, দিল্লি, পুদুচেরি।
সূচকসমূহ
সুশাসন সূচকের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ এবং জনমুখী প্রশাসনের প্রতি সরকারের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে। এই ক্ষেত্রগুলির অধীনে থাকা ৫৮-টি নির্দিষ্ট সূচকের মধ্যে কয়েকটি জাতীয় সাফল্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হল :
১. কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র
কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রটি মূলত এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে: কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রের সামগ্রিক বৃদ্ধি, খাদ্যশস্য উৎপাদনের হার বৃদ্ধি, উদ্যানজাত ফসলের বৃদ্ধি, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিম ও পোল্ট্রি উৎপাদনের হার বৃদ্ধি, শস্য বিমা এবং ই-মার্কেট বা অনলাইন বাজারের আওতাভুক্ত কৃষি মান্ডিগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি।
২.বাণিজ্য ও শিল্প
বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায় এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে : ব্যবসা-বাণিজ্যের সহজলভ্যতা বা ইজ-অফ-ডুইং বিজনেস, শিল্পের বিকাশ, অনলাইন উদ্যোগ আধার নিবন্ধনের আওতায় নথিভুক্ত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিটের সংখ্যার পরিবর্তন, জিএসটির অধীনে নথিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি এবং স্টার্ট-আপের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়া।
৩.মানবসম্পদ উন্নয়ন
মানবসম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রটি এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে: শিক্ষার গুণগত মান, প্রাথমিক স্তরে স্কুলছুট কমিয়ে পড়ুয়াদের ধরে রাখার হার, লিঙ্গসাম্য (নারী-পুরুষ সমানাধিকার), তফশিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত পড়ুয়াদের নাম নথিভুক্তকরণের অনুপাত, পাঠদানের উদ্দেশ্যে স্কুলে কার্যকরী কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ, দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ এবং স্বনির্ভরতা-সহ কর্মসংস্থানের হার।
৪.জনস্বাস্থ্য
জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায় এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে: স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকদের প্রাপ্যতা, সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের মান, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রতি ১০০০ জন জনসংখ্যা পিছু হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা।
৫.গণ-পরিকাঠামো ও জনপরিষেবা
গণ-পরিকাঠামো ও জনপরিষেবা ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায় এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে: পানীয় জলের সহজলভ্যতা, গ্রামীণ জনবসতিগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন, রান্নার প্রয়োজনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের জোগান, মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি এবং শহরের ওয়ার্ডগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের আওতা বৃদ্ধি।
৬.অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা
অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা বা ইকোনমিক গভর্নেন্স ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রটি এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে: মাথাপিছু জিএসডিপি বা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, জিএসডিপির শতাংশ হিসেবে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ, মোট রাজস্ব আয়ের অনুপাতে রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ এবং রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের নিরিখে ঋণের (মোট বকেয়া দায়বদ্ধতা) অনুপাত।
৭.সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন
সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রটি এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়: জন্মের সময় লিঙ্গানুপাত, স্বাস্থ্য বিমার আওতাভুক্তি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা, বেকারত্বের হার, সকলের জন্য আবাসন, মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, তফশিলি জাতি, জনজাতি, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন, আদালত কর্তৃক তফশিলি জাতি ও জনজাতি নিগ্রহ মামলার নিষ্পত্তি, প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যা পিছু ব্যাঙ্কিং আউটলেটের সংখ্যা এবং আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত রেশন কার্ড।
৮.বিচারব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা
বিচারব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রটি এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে: অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করার হার, পুলিশ কর্মীর প্রাপ্যতা, পুলিশ বাহিনীতে মহিলা কর্মীদের অনুপাত, আদালতের মামলা নিষ্পত্তির হার এবং ভোক্তা আদালত বা কনজিউমার কোর্টের মামলা নিষ্পত্তির গতি।
৯.পরিবেশ
পরিবেশ ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায় এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে: বনভূমির আয়তনের পরিবর্তন, মোট উৎপাদিত বর্জ্যের তুলনায় বর্জ্য পুনর্চক্রীকরণ করার অনুপাত, ক্ষয়প্রাপ্ত বা অনুর্বর জমির শতাংশ এবং গ্রিড-সংযুক্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জির উৎপাদন ক্ষমতার বৃদ্ধি।
১০.জনমুখী শাসনব্যবস্থা
জনমুখী শাসনব্যবস্থা বা নাগরিক-কেন্দ্রিক গভর্নেন্স ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রটি এই প্রধান সূচকগুলির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে: রাজ্যগুলি দ্বারা পরিষেবা পাওয়ার অধিকার আইন প্রণয়ন, জন-অভিযোগ প্রতিকারের বর্তমান অবস্থা এবং নাগরিকদের জন্য অনলাইনে সরকারি পরিষেবার প্রাপ্যতা।
২০২৫ সালে সুশাসনের উপর আয়োজিত বিভিন্ন সম্মেলন ও অধিবেশন
২০২৫ সালে প্রশাসনিক সংস্কার ও জনঅভিযোগ বিভাগ সুশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর উপর বিভিন্ন সম্মেলন, ওয়েবিনার ও অধিবেশন পরিচালনা করেছে :
২৮-তম জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স সম্মেলন ২২-২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, বিশাখাপত্তনম, অন্ধ্রপ্রদেশ: ‘বিকশিত ভারত: সিভিল সার্ভিস এবং ডিজিটাল রূপান্তর’ - এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে ১০০০-এরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন এবং ই-গভর্ন্যান্সের জন্য জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল শাসনব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই সম্মেলনে ‘বিশাখাপত্তনম ঘোষণা’ গ্রহণ করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্সেস (IIAS)-DARPG সম্মেলন, ১০-১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, নয়াদিল্লি : এই সম্মেলনে ৬৬-টি ব্রেকআউট সেশন এবং সাতটি প্লেনারি সেশন আয়োজিত হয়েছিল, যেখানে ৫৮-টি দেশের ৭৫০-এরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনে ‘Viksit Bharat@2047 – Governance Transformed’ শীর্ষক একটি ৭১০ পৃষ্ঠার সংকলন প্রকাশ করা হয়। DARPG সচিব ভি. শ্রীনিবাস ৬২% ভোট পেয়ে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য ভারতের প্রথম আইআইএএস সভাপতি নির্বাচিত হন।
স্টেট কোলাবোরেটিভ ইনিশিয়েটিভ স্কিম ২০২৫: রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সরকারদের নিয়ে আয়োজিত দুটি জাতীয় প্রচার বিভাগ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পরিষেবা পোর্টাল এবং সঠিক সময়ের ড্যাশবোর্ডের জন্য ৮০-টিরও বেশি প্রকল্প প্রস্তাব জমা পড়েছে। কাজের অগ্রগতি এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট 'SCI পোর্টাল' তৈরি করা হয়েছে।
সুশাসন দিবস ২০২৫ অটল বিহারী বাজপেয়ীর দায়বদ্ধ ও জনমুখী শাসনব্যবস্থার স্বপ্নকে সম্মান জানায়। সুশাসন সূচক দশটি প্রধান ক্ষেত্রে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাজের মান যাচাই করার একটি শক্তিশালী মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে, যা তথ্যভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করে। ভারতের বর্তমান অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিমাপ এবং সুনির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থা ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করে। দেশ যখন ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালার মাধ্যমে সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করা হল ন্যায়সংগত ও স্থিতিশীল উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।