২০১৭ সাল থেকেই সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার উপর কড়া নজরদারি শুরু করে। ২০২০ সালে সেনাদের ৮৯টি মোবাইল অ্যাপ মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 December 2025 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সেনাবাহিনী সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ে বড় পরিবর্তন আনল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেনা জওয়ান এবং অফিসাররা এখন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারবেন, তবে শুধু দেখার জন্য (Indian Army social media rules)। পোস্ট করা, লাইক দেওয়া বা কমেন্ট করা এখনও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সেনা সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল নিরাপত্তা বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ ও সেনাদের সচেতনতা বাড়ানো।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিট ও বিভাগকে জানানো হয়েছে যে সেনা সদস্যরা ইনস্টাগ্রামের কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন (Army Instagram guidelines)। কোনও ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট চোখে পড়লে তারা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে কিছু পোস্ট বা প্রতিক্রিয়া জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধই থাকছে।
সেনাবাহিনী অতীতে বেশ কয়েকবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়া নিয়ম জারি করেছে। এর প্রধান কারণ ছিল নিরাপত্তা। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিদেশি এজেন্সির ‘হানি ট্র্যাপ’-এ পা দিয়ে সেনা সদস্যরা অজান্তে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করে ফেলেছেন। সেই কারণেই ফেসবুক, এক্স (টুইটার) কিংবা ইনস্টাগ্রামে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।
সম্প্রতি চাণক্য ডিফেন্স ডায়লগে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, আজকের প্রজন্মের জন্য স্মার্টফোন খুবই প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, নতুন ক্যাডেটদের প্রথম প্রথম ফোন ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের বোঝানো হয় যে ফোনের বাইরে-ও জীবন আছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে ফোন থাকা দরকার, বাড়ির খবর নেওয়া থেকে শুরু করে পড়াশোনা পর্যন্ত সমস্ত কিছুতেই ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ও উত্তরের প্রসঙ্গেও সেনাপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য—“Army reacts নয়, Army responds।” অর্থাৎ সেনা সদস্যরা যেন কোনও পোস্ট দেখে তৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখান। ভেবে, বিশ্লেষণ করে পরে উত্তর দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সেই জন্যই এক্স-সহ সব প্ল্যাটফর্মেই সেনাদের শুধু দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অংশগ্রহণের নয়।
২০১৭ সাল থেকেই সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার উপর কড়া নজরদারি শুরু করে। ২০২০ সালে সেনাদের ৮৯টি মোবাইল অ্যাপ মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও এখন ধীরে ধীরে কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—যেমন ইউটিউব, ফেসবুক, লিঙ্কডইন, টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ কিন্তু কড়া নজরদারি বজায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ দেখা গেছে, সেনার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলই ছিল তথ্যের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। তাই সেনাবাহিনী মনে করছে, নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।