এদিন সকাল ৮টায় বেঙ্গালুরু থেকে আসা ইন্ডিগোর 6E460 উড়ানটি নামার সঙ্গে সঙ্গেই জলকামান দিয়ে সেটিকে স্বাগত জানানো হয় - বিমান চলাচলের জগতে যা এক ঐতিহ্যবাহী রীতি। এর ঠিক ৪০ মিনিট পর হায়দরাবাদগামী ইন্ডিগোর 6E882 উড়ানটি ছাড়ে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 December 2025 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবা শুরু হল নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (NMIA)। এর ফলে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর মুম্বই পেল দ্বিতীয় বিমানবন্দর।
এদিন সকাল ৮টায় বেঙ্গালুরু থেকে আসা ইন্ডিগোর 6E460 উড়ানটি নামার সঙ্গে সঙ্গেই জলকামান দিয়ে সেটিকে স্বাগত জানানো হয় - বিমান চলাচলের জগতে যা এক ঐতিহ্যবাহী রীতি। এর ঠিক ৪০ মিনিট পর হায়দরাবাদগামী ইন্ডিগোর 6E882 উড়ানটি ছাড়ে।
১৯৯৭ সালে মহারাষ্ট্রের সিডকো (CIDCO) এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের পরিকল্পনা করেছিল। তবে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং কোভিড অতিমারির কারণে প্রকল্প বারবার পিছিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন এবং চলতি বছরের ৮ অক্টোবর বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

২০২১ সাল থেকে আদানি এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস লিমিটেড এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। সংস্থার দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত নির্মাণ পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক পরিচালনায় নিয়ে আসা হয়েছে বিমানবন্দরটিকে।
প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১৯ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই বিমানবন্দরটি ১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির উপর বিস্তৃত। বর্তমানে একটি রানওয়ে ও একটি টার্মিনাল চালু হয়েছে, যার বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ কোটি। পাঁচটি ধাপ সম্পূর্ণ হলে বছরে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী সামলানোর ক্ষমতা থাকবে NMIA-র। পাশাপাশি থাকছে পৃথক কার্গো টার্মিনাল ও মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এই বিমানবন্দরটি পরিচালিত হচ্ছে নবি মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (NMIAL)-এর মাধ্যমে। যেখানে আদানি গোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব ৭৪ শতাংশ এবং সিডকোর হাতে রয়েছে বাকি ২৬ শতাংশ শেয়ার।
প্রথম দিনে শুধুমাত্র ঘরোয়া উড়ান চালু হয়েছে। ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাসা এয়ার ও স্টার এয়ার - এই চারটি সংস্থা মিলিয়ে দেশের ৯টি শহরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। বুধবার মোট ১৫টি নির্ধারিত উড়ান রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা বিমানবন্দরটি চালু থাকবে। দিনে সর্বাধিক ২৪টি উড়ান ও প্রতি ঘণ্টায় ১০টি বিমান ওঠানামার ক্ষমতা রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রী পরিষেবায় প্রথম দিন থেকেই ডিজি-যাত্রা প্রযুক্তি চালু হয়েছে। চেক-ইন থেকে বোর্ডিং পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় কন্ট্যাক্টলেস ব্যবস্থা থাকছে। খাবার ও কেনাকাটার ক্ষেত্রেও স্থানীয় সংস্কৃতি ও সাধ্যের মধ্যে দামের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্থাপত্যের দিক থেকে বিমানবন্দরটির নকশায় অনুপ্রেরণা হিসেবে রাখা হয়েছে ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম। আধুনিক নকশার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে মিলিয়ে সাজানো হয়েছে টার্মিনাল।
নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হওয়ায় ছত্রপতি শিবাজি বিমানবন্দরের উপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুম্বই মহানগরীকে একটি মাল্টি-এয়ারপোর্ট ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে দাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।