টিভিকে প্রধান ও অভিনেতা বিজয়কে টানা ছ’ঘণ্টার বেশি জেরা করেছে সিবিআই। জেরায় বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি বা তাঁর দলের কেউই দায়ী নন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 January 2026 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারুরের ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার তদন্ত ধীরে ধীরে আরও গতি পাচ্ছে (Karur Stampede case)। এই মামলায় সোমবার টিভিকে (Tamilaga Vettri Kazhagam) প্রধান ও অভিনেতা বিজয়কে টানা ছ’ঘণ্টার বেশি জেরা করেছে সিবিআই (CBI)। জেরায় বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি বা তাঁর দলের কেউই দায়ী নন। বরং ভিড় বাড়তে দেখে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে তিনি আগেই সভাস্থল ছাড়েন।
বিজয় কী জানিয়েছেন?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিজয় জানিয়েছেন (Vijay Questioning), তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর উপস্থিতি ভিড়কে আরও উত্তেজিত করতে পারে। তাই পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই তিনি সরে যান। এর আগে টিভিকে কর্মীরাও জেরায় একই দাবি করেছেন। এখন সিবিআই তাঁদের বক্তব্য পুলিশের আগের মন্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।
ত্রাসের সেই রাতেই পুলিশ অভিযোগ করেছিল, নির্ধারিত সময়ের ৭ ঘণ্টা দেরিয়ে সভা শুরু হয়েছিল। বিজয়ের (TVK Chief Vijay) মঞ্চে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ভিড় বাড়তে থাকে এবং বিজয় এলেই দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তাঁদের দাবি, এত বড় এক সভায় খাবার, জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষ পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে (Karur Stampede)। বিজয় অবশ্য এই অভিযোগকে ‘ডিএমকে-র রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেন।
তদন্ত কোন পর্যায়ে?
প্রথমে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই মামলার জন্য সিট (SIT) গঠন করে। পরে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয় এবং পর্যবেক্ষণের জন্য এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি প্যানেলও তৈরি করে। তামিলনাড়ু সরকারের এক সদস্যের কমিশনও বাতিল করা হয়। টিভিকে শুরু থেকেই দাবি করছিল, স্বাধীন তদন্তই সত্য সামনে আনবে। দলের এক নেতা এদিন জানিয়েছেন, “বিজয় তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন। আমরা সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় আছি।”
জেরার দিন কীভাবে কাটল?
সোমবার সকালে চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছে বিজয় সরাসরি সিবিআই দফতরে (Delhi CBI HQ) যান। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তকারীরা তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করেন (Karur Stampede Probe)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
পুলিশের প্রস্তুতি
বিজয়ের বিপুল জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে সিবিআই দফতরের বাইরে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী। যাতে ভিড় জমে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়। তবুও কিছু অনুরাগী সেখানে পৌঁছে যান। তবে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এখন কী করবে সিবিআই?
বিজয় ও টিভিকে কর্মীদের বক্তব্য পুলিশের আগের বিবৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ঠিক কোথায় ভুল হয়েছিল, কিংবা অব্যবস্থাপনার উৎস কোথায়, তা স্পষ্ট করাই তদন্তের মূল লক্ষ্য।