সেই রাতেই পুলিশ অভিযোগ করেছিল, নির্ধারিত সময়ের ৭ ঘণ্টা দেরিয়ে সভা শুরু হয়েছিল। বিজয়ের মঞ্চে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ভিড় বাড়তে থাকে এবং বিজয় এলেই দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 12 January 2026 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারুরে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) সামনে হাজিরা দিলেন টিভিকে প্রধান বিজয় (TVK chief Vijay)। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৪১ জন প্রাণ হারান। সাম্প্রতিককালে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর (Karur Stampede) একটি।
ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া (Karur tragedy probe) একাধিক মোড় নেয়। মাদ্রাজ হাইকোর্ট প্রথমে একটি সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি সিবিআই–এর হাতে তুলে দিয়ে বলে, পুরো তদন্ত পর্যবেক্ষণ করবে অবসরপ্রাপ্ত এক সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বিচারপতির নেতৃত্বাধীন প্যানেল (CBI inquiry)। তামিলনাড়ু সরকারের গঠিত এক সদস্যের কমিশনও বাতিল করে শীর্ষ আদালত। শুরু থেকেই টিভিকে দাবি করে আসছিল, স্বাধীন তদন্তই সত্য সামনে আনতে পারবে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “বিজয় তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। আমরা সত্য জানার অপেক্ষায় আছি।”
ত্রাসের সেই রাতেই পুলিশ অভিযোগ করেছিল, নির্ধারিত সময়ের ৭ ঘণ্টা দেরিয়ে সভা শুরু হয়েছিল। বিজয়ের মঞ্চে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ভিড় বাড়তে থাকে এবং বিজয় এলেই দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তাঁদের দাবি, এত বড় এক সভায় খাবার, জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষ পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে (Karur Stampede)। বিজয় অবশ্য এই অভিযোগকে ‘ডিএমকে-র রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, পুলিশই যথাযথ ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তা পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এদিন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা এনিয়েই বিজয়কে একাধিক প্রশ্ন করতে পারেন বলে অনুমান (Vijay CBI questioning)।
এদিকে এরই মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিজয়ের ছবি ‘জন নয়গন’–কে কেন্দ্র করে। পোঙ্গল উপলক্ষে ১০ জানুয়ারি মুক্তির কথা থাকলেও ছবিটি এখনও সেন্সর ছাড়পত্র পায়নি। একজন সিঙ্গল বেঞ্চ ছাড়পত্র দিতে বললেও ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ স্থগিত করে শুনানি পিছিয়েছে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই বিষয়ে এখনও বিজয় বা টিভিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
বিরোধীদের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের আগে টিভিকেকে (Vijay CBI questioning) চাপের মুখে ফেলতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনও নাম না করে বলেন, 'সিবিএফসিও এখন কেন্দ্রের রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তবে বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।' টিভিকের এক নেতা জানান, “এখন পর্যন্ত কোনও চাপ নেই। তদন্তে আমাদের আস্থা আছে। প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হব।”