কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের জন্য যে হেল্পলাইন তাঁরা চালান, তাতে ইতিমধ্যেই ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 January 2026 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে পথকুকুরের সংখ্যা ও কুকুরে কামড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার আবারও শুনানি করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court stray dog case)। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “সব কুকুরকে রাস্তা থেকে তুলে দিতে হবে,” এমন কোনও নির্দেশ তারা কখনও দেয়নি। বরং নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রণ, টিকাকরণ ও বন্ধ্যাত্বকরণই সমস্যার একমাত্র সমাধান।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি শুরু হয়। কুকুরপ্রেমী, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত এবং প্রাণী সংগঠনের তরফের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলির তরফের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট সি.ইউ সিং বলেন, হঠাৎ এলাকা থেকে কুকুর সরিয়ে ফেললে শহরের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে (Dogs rats cats ecosystem India)। দিল্লির মতো শহরে কুকুর না থাকলে ইঁদুর ও বানরের সংখ্যা বাড়তে পারে, যেগুলির মাধ্যমেও রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তাঁর পরামর্শ, "সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল ABC (Animal Birth Control) নিয়ম অর্থাৎ কুকুরকে ধরেন, বন্ধ্যাত্বকরণ করেন এবং একই এলাকায় ছেড়ে দেন।"
এর উত্তরে রসিকতার সুরে বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, "কুকুর-বিড়ালের শত্রুতা সবাই জানে। ইঁদুর দমনে তাহলে বেশি বেশি বিড়াল রাখা উচিত।”
তবে তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতাল বা কলেজ ক্যাম্পাসে কুকুর ঢোকার বিষয়টি কীভাবে আটকানো যায়? জবাবে আইনজীবী জানান, বড় বড় ক্যাম্পাস ও খোলা সীমানা থাকলে কুকুর আসবেই, তাই ABC নিয়মই একমাত্র কার্যকর সমাধান (ABC rules dog sterilisation)।
ABC বাস্তবায়নে তহবিলের সমস্যা
আইনজীবী কৃষ্ণন ভেঙ্কটেশ জানান, গোটা দেশে পথকুকুরের সংখ্যা প্রায় ৫.২ কোটি। কিন্তু সরকারি স্বীকৃত ABC সেন্টার মাত্র ৬৬টি। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি ABC সেন্টার চালাতে বছরে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পশু-চিকিৎসকও নেই, বড় পরিসরে জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) চালানো কঠিন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের পাঁচটি মন্ত্রককে একসঙ্গে এই কাজে নামতে হবে, নাহলে বাস্তবিক সমাধান সম্ভব নয়।
বিজেপি নেতা বিজয় গোয়েলের পক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court stray dog case) জানান, দেশজুড়ে পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ABC (Animal Birth Control) নিয়ম তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ঠিক কোন কুকুরকে ‘হিংস্র’ বলা হবে, তার কোনও স্পষ্ট সংজ্ঞাই নেই।
উদাহরণ হিসেবে তিনি দিল্লির রানা প্রতাপ বাগ এলাকার এক ঘটনার কথা তুলে ধরেন। সেখানে একটি কুকুর প্রথমে সাত বছরের এক শিশুকে কামড়ায়। তাকে কিছুদিনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হলেও, মুক্তি পাওয়ার পর সে আবার ৭৮ বছরের এক বৃদ্ধ এবং পরে আরও এক ৭০ বছরের মানুষকে কামড়ায়।
তিনি আরও দাবি করেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের জন্য যে হেল্পলাইন তাঁরা চালান, তাতে ইতিমধ্যেই ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।
এদিকে, বুধবার সুপ্রিম কোর্ট দেশজুড়ে কুকুরে কামড়ানোর ক্রমবর্ধমান ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। আদালত জানায়, পৌরসংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ABC নিয়ম সঠিকভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, এভাবে অবহেলা চলতে থাকলে মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়বে। পাশাপাশি রাস্তার ধারে অবাধে ঘুরে বেড়ানো পশুরাও বহু দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।