সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নজিরবিহীন ঘটনার দু’দিন পর অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই (CJI BR Gavai)।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই
শেষ আপডেট: 9 October 2025 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নজিরবিহীন ঘটনার দু’দিন পর অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই (CJI BR Gavai)। বৃহস্পতিবার আদালত কক্ষে তিনি বলেন, “গত সোমবার যা ঘটেছিল, তা আমাদের জন্য এক ‘ভুলে যাওয়া অধ্যায়’। আমরা খুবই বিস্মিত হয়েছিলাম (Shoe Attack In Court)।”
গাভাই-র পাশে বসেছিলেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞা। তিনি বলেন, “এই ঘটনাকে আমি হালকা ভাবে নিতে পারি না। দেশের প্রধান বিচারপতি, এটা রসিকতার বিষয় নয়। বিচারকেরা অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে বিচারবোধ বদলায় না।”
ঘটনার সময় উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটা একেবারেই ক্ষমার অযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “প্রধান বিচারপতির যে উদারতা ও মর্যাদা, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
কী ঘটেছিল সোমবার সকালে
৬ অক্টোবর, সোমবার সকাল। সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর কক্ষে দিনের প্রথম মামলা শুনছিলেন প্রধান বিচারপতি গাভাই। সেই সময় আদালতের গ্যালারি থেকে হঠাৎ এক প্রবীণ আইনজীবী জুতো খুলে বিচারপতির দিকে ছুড়ে দেন।
চিহ্নিত ওই আইনজীবীর নাম রাকেশ কিশোর। জানা গেছে, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশাধিকারের প্রক্সিমিটি কার্ড ব্যবহার করে কক্ষে ঢুকেছিলেন। জুতো ছোড়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলেন, “সনাতন কা অপমান নেহি সহেঙ্গে” অর্থাৎ, “সনাতনের অপমান বরদাস্ত করব না।”
তবে জুতোটি বিচারপতির বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছয়নি। নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে আটকে দেন এবং আদালত কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান।
সব কিছুর মধ্যেও শান্ত ছিলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “আমি এমন ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হই না। কেউ যেন মনোযোগ না হারায়। চলুন, কাজ চালিয়ে যাই।”
ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকে আদালতের রেজিস্ট্রি। যদিও দিল্লি পুলিশ আদালত চত্বরে রাকেশ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সেই দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি এক্স-এ লেখেন, “ভারতের প্রধান বিচারপতির উপর এই আক্রমণ প্রত্যেক ভারতীয়কে ক্ষুব্ধ করেছে। সমাজে এর কোনও স্থান নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নিন্দনীয়।”
এর পরেই বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) অভিযুক্ত আইনজীবী রাকেশ কিশোরের আইনজীবী লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরামর্শ সভার বিবৃতিতে বলা হয়, “৬ অক্টোবর সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে আপনি, রাকেশ কিশোর, সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর কক্ষে বিচারাধীন শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির দিকে জুতো নিক্ষেপের চেষ্টা করেছেন, যা আদালতের মর্যাদার পরিপন্থী।”
বার কাউন্সিল তাঁকে দেশের কোনও আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হওয়া, যুক্তি দেওয়া বা পেশা চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিসও পাঠানো হয়েছে। যেখানে কারণ দেখিয়ে বলা হয়েছে, তাঁর এই স্থগিতাদেশ স্থায়ী না করা হবে।
প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো মন্দির কমপ্লেক্সে ভগবান বিষ্ণুর একটি ভাঙা মূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার মামলা চলাকালীন তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “যদি আপনি ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত হন, তাহলে তাঁর কাছে প্রার্থনা করুন, ধ্যান করুন, তিনিই ব্যবস্থা করবেন।”
এই মন্তব্যকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, বিচারপতি ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করেছেন।
পরে গাভাই বলেন, “আমার মন্তব্যকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি সব ধর্মকেই শ্রদ্ধা করি।”
তখনই সলিসিটর জেনারেল মেহতা মন্তব্য করেন, “আগে আমরা নিউটনের সূত্র জানতাম, প্রতিটি ক্রিয়ার সমান প্রতিক্রিয়া হয়। এখন দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি ক্রিয়ার অতিরিক্ত সামাজিক প্রতিক্রিয়া হয়।”