দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে ‘সনাতন ধর্ম’ রক্ষার লক্ষ্যে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অকথা-কুকথার বান ডেকেছে।

আম আদমি পার্টির সরকার একগুচ্ছ এফআইআর দায়ের করেছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
শেষ আপডেট: 9 October 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে ‘সনাতন ধর্ম’ রক্ষার লক্ষ্যে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অকথা-কুকথার বান ডেকেছে। জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করা প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ কিশোরকে সমর্থনজ্ঞাপক ওই সব পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের উদ্দেশে আপত্তিকর ও জাতপাত সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। দলিত আন্দোলনের নেতা বিআর আম্বেদকরপন্থী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সরকার একগুচ্ছ এফআইআর দায়ের করেছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে। যার ভিত্তিতে প্রায় একশোর বেশি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই হ্যান্ডল থেকে জাতপাত নিয়ে এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এইসব পোস্টের মাধ্যমে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সাংবিধানিক পদমর্যাদা হানিকর ও অসম্মানজনক কথাবার্তা রয়েছে। এমনকী তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের বিরুদ্ধে অপমান করা হয়েছে। যাতে সমাজে শত্রুতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। জাতভিত্তিক ঘৃণা ও তফসিলি জাতির এক সদস্যের বিরুদ্ধে খারাপ মানসিকতা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশের মতে, এর ফলে বিভিন্ন জাতের মধ্যে শত্রুতা বাড়বে এবং জাতিভিত্তিক ইচ্ছাকৃত অপদস্থ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। যা শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আপত্তিজনক ও বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে পুলিশের।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের খবর বলছে, পুলিশ রাকেশ কিশোরের কাছ থেকে একটি কাগজের টুকরো উদ্ধার করে। যাতে লেখা ছিল, মেরা সন্দেশ হর সনাতনী কে লিয়ে হ্যায়...সনাতন ধর্ম কা অপমান নহি সহেগা হিন্দুস্থান। পাঞ্জাব পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলি মূলত তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর নিগ্রহ দমনমূলক আইনের অন্তর্গত। কিছু মামলা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা মোতাবেকও করা হয়েছে।