গত সোমবারের ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রং লেগেছে।

‘পরমাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে সনাতন ধর্ম রক্ষা’র কাজে ব্রতী রাকেশ কুমারের বাড়িতেও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করা প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ কিশোরের সমস্যা বাড়তে চলেছে। অন্য এক আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানির কাছে রাকেশ কিশোরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ফৌজদারি মামলা দায়েরের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন।
গত সোমবারের ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রং লেগেছে। ‘পরমাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে সনাতন ধর্ম রক্ষা’র কাজে ব্রতী রাকেশ কুমারের বাড়িতেও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে। গতকাল, মঙ্গলবার রাকেশ কুমারের ময়ূর ভবন এলাকার রিভারভিউ অ্যাপার্টমেন্টের দরজার বাইরে বিক্ষোভ দেখান দলিত সম্প্রদায়ের লোকজন। তাঁদের হাতে ছিল জুতোর মালা, বিআর আম্বেদকরের ছবি ও সংবিধান বই। প্রধান বিচারপতি গাভাইয়েরর উপর আক্রমণের চেষ্টাকে তাঁরা দলিত সমাজের বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে বর্ণনা করেন। তাঁরা স্লোগান তোলেন, সিজেআই কা অপমান নহি সহেগা হিন্দুস্থান।
পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ দেখে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয় আবাসনের গেটের বাইরে। অনেক আবাসিকের অভিযোগ, রাকেশ কিশোরের হিংসাত্মক ব্যবহারের জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। আবাসনের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, কিশোরের পরিবারের তরফে কাউকে ঢুকতে দিতে মানা করা হয়েছে। তাঁর শরীর ভাল নেই বলে জানিয়েছে পরিবার।
এদিকে, কিশোরের সংকট ঘনীভূত হতে চলেছে সুভাষচন্দ্রন কে আর নামে এক আইনজীবী আদালত অবমাননা আইনে রাকেশ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়ে আর্জি জানানোয়। এই আইনে হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টে ফৌজদারি মামলা করা যায়। হাইকোর্টের ক্ষেত্রে অনুমতি লাগে অ্যাডভোকেট জেনারেলের। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সলিসিটর জেনারেলের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
আর্জিতে বলা হয়েছে, এই কাজ বিচার ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের শামিল। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের সম্মানকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করেছেন রাকেশ কিশোর।
প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের বৃদ্ধা মাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। কমলতাই গাভাই বলেছেন, এ শুধু তাঁর ছেলে নয়, সংবিধানের উপর হামলা। ৮৪ বছরের বৃদ্ধা বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। দেশের প্রতিটি মানুষের বিরোধিতা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু, আইনকে সম্মান জানিয়ে। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান বজায় রাখা আমাদের সকলেরই উচিত।