রফতানি পদ্ধতি বদলের অর্থ কেবল বেশি পরিমাণ তেল পাঠানো নয়। বড় জাহাজ ব্যবহারে ভাড়া খরচ তুলনায় কমে এবং সরবরাহের গতি বাড়ে। ভিএলসিসি (VLCC)-র বহনক্ষমতা অনেক বেশি, ফলে একবারেই বড় কার্গো পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 25 February 2026 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন অধ্যায় শুরু হল ভেনেজুয়েলা–ভারত তেল বাণিজ্যে (India Venezuela Oil Exports)। এবার আর ছোট বা মাঝারি জাহাজ নয়, বিশ্বের বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজ - ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (VLCC)—তে ভারতীয় বন্দরের দিকে রওনা দিচ্ছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল (Venezuela Oil Exports)। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত তেল বহনের ক্ষমতা থাকায় রফতানির ধরনেই এসেছে বড়সড় পরিবর্তন।
কারাকাস ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সরবরাহ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেই এই গতি লক্ষ করা যাচ্ছে। চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলি দ্রুত নড়েচড়ে বসে। ইতিমধ্যেই ট্রেডিং সংস্থা ভাইটল (Vitol) এবং ট্রাফিগুরা (Trafigura) মার্চ মাসে তিনটি ভিএলসিসি (VLCC - Nissos Kea, Nissos Kythnos ও Arzanah) ভাড়া করেছে। জোসে টার্মিনাল থেকে তেল তুলে সেগুলি ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আরও একটি বৃহৎ ট্যাঙ্কার অলিম্পিয়ন লিওন (Olympic Lion)-ও ভেনেজুয়েলার পথে রয়েছে, যার পরবর্তী গন্তব্য ভারত বলেই অনুমান।
এই রফতানি পদ্ধতি বদলের অর্থ কেবল বেশি পরিমাণ তেল পাঠানো নয়। বড় জাহাজ ব্যবহারে ভাড়া খরচ তুলনায় কমে এবং সরবরাহের গতি বাড়ে। ভিএলসিসি (VLCC)-র বহনক্ষমতা অনেক বেশি, ফলে একবারেই বড় কার্গো পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার জমে থাকা বিপুল স্টক দ্রুত সরানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর পদক্ষেপ।
ভারতের জন্যও পরিস্থিতি কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৯ সালের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রধান ক্রেতা। নিষেধাজ্ঞার জেরে সেই প্রবাহ কার্যত থমকে যায়। বর্তমানে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় পুরনো বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন জ্বালানি সংস্থা চেভরন (Chevron) সম্প্রতি রিলায়্যান্স ইন্ড্রাস্ট্রিজকে (Reliance Industries)-কে বসক্যান (Boscan) হেভি ক্রুড সরবরাহ করেছে - প্রায় ছয় বছর পর এমন সরাসরি লেনদেন নজরে এল। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্প (Indian Oil Corp), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্প (Bharat Petroleum Corp) এবং এইচপিসিএল মিত্তল এনার্জি (HPCL Mittal Energy)-সহ একাধিক ভারতীয় রিফাইনারি ট্রেডিং সংস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার হেভি ক্রুড সংগ্রহ করছে।
এর পেছনে বড় কারণ আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো। যদিও বাজারদর ও মার্জিন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশ্লেষকদের মতে বৃহৎ কার্গো পরিবহণ সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোকে ভারসাম্যে আনতে সাহায্য করতে পারে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভেনেজুয়েলার তেল রফতানি দৈনিক প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সব মিলিয়ে স্পষ্ট - বৃহৎ ট্যাঙ্কার, নতুন চুক্তি এবং সক্রিয় বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব মিলিয়ে ভারত–ভেনেজুয়েলা তেল সম্পর্ক আবারও গতি পাচ্ছে।