
বর্ষায় প্রকোপের খাঁড়া ঘা পড়ে শুধু সবজিতেই নয়, ফলমূলেও এবং অবশ্যই নিত্যপুজোর ফুলের বাজারেও।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘...সাওন জো আগ লগায়ে, উসে কৌন বুঝায়ে!’ কিশোর কুমারের সেই অবিস্মরণীয় গানের কথাই সত্যি! সবজির বাজারে আগুন লেগেছে শ্রাবণে। আর এই অগ্নিকাণ্ডের কাঠগড়ায় স্বয়ং বরুণদেব। ফি মরশুমে বর্ষা এলেই সবজির বাজার জ্বলেপুড়ে ওঠে। এর হাত পরিত্রাণ নেই মধ্যবিত্তের।
যেমন- রীনা রাই। বারাণসীর এক গৃহবধূ। ছান্দুয়া সাট্টি সবজি বাজারে আনাজ কিনতে গিয়েছিলেন। বারাণসী শহরে গত দু দশক ধরে এই বাজারই সবথেকে বড় বাজার। রীনা রাই যা বললেন, তা শুধু বারাণসী নয়, গোটা দেশের ছবিকেই তুলে ধরে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই সেই যে বাজারদর সিঁড়ি চড়তে থাকে একেবারে উৎসব মরশুম কাটিয়ে তবে সে থামে।
বর্ষায় প্রকোপের খাঁড়ার ঘা পড়ে শুধু সবজিতেই নয়, ফলমূলেও এবং অবশ্যই নিত্যপুজোর ফুলের বাজারেও। যার মূল্য চোকাতে হয় গেরস্তের হেঁসেলকে। রাই বলেন, বর্ষা আসতেই সবজির বাজারে কাটছাঁট করতে হয় দামের কারণে। বর্ষা যত বাড়ে, শহরের রাস্তাঘাট ডুবে যায়, ততই তেতেপুড়ে ওঠে বাজারদর। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত মাসে আমি চারজনের সংসারের জন্য ১২০ টাকার সবজি কিনেছিলাম। আজ তা ২৫০ টাকা হয়ে গেল।
ঝিঙে, চিচিঙ্গার দাম বর্ষা আসার আগে ছিল ৩০ টাকা। হঠাৎ করে ৭০ টাকা কেজি হয়ে গিয়েছে কাশীতে। টম্যাটো ৪০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। দিল্লিতে টম্যাটো রেগে আরও লাল। ৯০-১০০ টাকায় বিকোচ্ছে। ভোপালে ক্রমান্বয়ে ১২০ টাকা কেজি ও ৬০ টাকা কেজি। এ বছর দেশের প্রায় সর্বত্র ভারী বৃষ্টি চলছে বহু দিন ধরে। বিশেষত গাঙ্গেয় সমভূমি, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এলাকায়। কলকাতায় বেগুনের দাম জুনে ছিল ১০০-১২০ টাকা। অগস্টে সেটাই এসে ঠেকেছে ১৬০-১৭০ টাকা কেজিপ্রতি। কাঁচা লঙ্কার ঝাল তো গৃহিণীর গালমন্দের থেকেও ঝাঁঝাল। ১০০ গ্রামের দাম ৩০-৩৫ টাকা। বিনসের দাম ২৫০ টাকা কেজি। যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৫০ টাকা। কেবল আলু, পেঁয়াজ (যেহেতু হিমঘরে থাকে) ও কুমড়োর দাম আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে।