এই ঘটনার পর বড় প্রশ্ন উঠছে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। কীভাবে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই এই খুন
শেষ আপডেট: 21 March 2026 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বেনারসে কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই গুলি করে খুন করা হল এক ছাত্রকে (Varanasi college student murder)। শুক্রবার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে নিহতের পরিবার। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তকে ‘এনকাউন্টার’-এ না মারা হলে ছেলের শেষকৃত্য করা হবে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই এই খুন (UP college campus shooting case)। মৃত ছাত্র সূর্য প্রতাপ সিং, বয়স ২৩। তিনি উদয় প্রতাপ কলেজের বিএ চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ, কলেজের সোশ্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ভবনের করিডরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সহপাঠী মনজিৎ চৌহান একদম কাছ থেকে সূর্যকে তাক করে গুলি চালায়।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত চার রাউন্ড গুলি চালায়, লক্ষ্য ছিল সিং-এর মাথা ও বুক। গুলি চালানোর পর সে দ্রুত দোতলায় উঠে যায়, তারপর বাউন্ডারি ওয়াল টপকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় কাছাকাছি একটি আবর্জনার স্তূপে পিস্তল ফেলে দেয় বলে। পরে পুলিশ সেই অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে মালদহিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সূর্য প্রতাপকে। পরে তাঁকে বিএইচ ট্রমা কেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্তের সময় ভেঙে পড়েন নিহতের বাবা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্তকে ‘এনকাউন্টার’-এ না মারা হলে ছেলের শেষকৃত্য করবেন না। এই দাবিকে ঘিরে পুলিশ ও পরিবারের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয়। পরে মৃতদেহটি শিবপুরে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সূর্য প্রতাপ সিং গাজীপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং পড়াশোনার জন্য বারাণসীতে থাকতেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা ঋষিদেব সিং এবং মা কিরণ সিং, দু’জনেই অতুলানন্দ স্কুলের কর্মী। তাঁদের পরিবারে আরও দুই মেয়ে রয়েছে।
এই খুনের ঘটনার পরেই কলেজ চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা কলেজের মূল গেট বন্ধ করে দেয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, অন্তত তিনজন শিক্ষক আক্রান্ত হন। একজন শিক্ষকের মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উত্তেজনা সামাল দিতে বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আটকে পড়া শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের পুলিশ নিরাপদে বের করে আনে।
বারাণসী পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, দুই ছাত্রের মধ্যে পুরনো শত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই এই খুন। পুলিশ অভিযুক্ত মনজিৎ চৌহান এবং তাঁর সহযোগী অনুজ ঠাকুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার সময় অনুজ সেখানে উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এখনও তারা পলাতক। এই ঘটনার পর বড় প্রশ্ন উঠছে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। কীভাবে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।