ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মহিলার গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যেখান থেকে পরিষ্কার তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। এরপর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 March 2026 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লখনউয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণ এবং তাঁর দৃষ্টিহীন ছেলেকে খুনের ঘটনার (Lucknow Double Murder) তিনদিন পর নাটকীয় পরিস্থিতির পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ (Police)। এই অপরাধ শুধু এলাকায় নয়, গোটা রাজ্যেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে নৃশংসতার এমন সব তথ্য, যা সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে অভিযুক্ত কিশান রাওয়াতকে (Kishan Rawat) ট্র্যাক করে তাঁর লোকেশনে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল। অভিযুক্ত নিজেকে বাঁচাতে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, আহত হন এক কনস্টেবল। পুলিশ আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি (encounter ) চালালে কিশানের পায়ে লাগে, বেশিদূর পালাতে পারেননি অভিযুক্ত। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরে অতিরিক্ত ডিএসপি রাল্লাপল্লি বাসন্ত কুমার ও এসিপি বিকাশ পাণ্ডের মতো কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো অভিযানটি তদারকি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছরের কিশান রাওয়াত লখনউয়ের মোহনলালগঞ্জের সিসেন্দি গ্রামের বাসিন্দা। গত সোমবার নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে প্রথমে তাঁকে ধর্ষণ করেন (Woman Brutally Raped) বলে অভিযোগ। এরপর নির্মমভাবে খুন করেন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর দৃষ্টিহীন ছেলেকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মহিলার সঙ্গে কিশানের আর্থিক বিবাদ চলছিল। কিশান নাকি তাঁকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিল এবং বেশ কিছুদিন ধরে চাপ দিচ্ছিল তা শোধ করার জন্য। পুলিশের ধারণা, এই টাকা-পয়সা সংক্রান্ত ঝামেলাই শেষ পর্যন্ত এই ভয়াবহ অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মহিলার গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যেখান থেকে পরিষ্কার তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। এরপর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তাতে দেখা যায়, হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে কিশান রাওয়াত ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত আরও স্পষ্ট দিক পায়।
তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনার সময় দৃষ্টিহীন ছেলে মা-কে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। তখনই তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে অভিযুক্ত। এই নির্মম ঘটনার পরে কিশান পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। পুলিশ তার অবস্থান চিহ্নিত করলে সে গুলি চালিয়ে পালাতে চায়। সেই সময়ই ঘটে রাতের গুলির লড়াই।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে অভিযুক্ত কিশান রাওয়াত। ভয়াবহ এই ঘটনার পুরো তদন্ত চালাচ্ছে লখনউ পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংস অপরাধের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।