শনিবার রাত হয়ে গেলেও সায়রা বাড়ি না ফেরায় তাঁর পরিবারের লোকেরা দুশ্চিন্তা করতে থাকে। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু সেই রাতে তরুণীর কোনও সন্ধান মেলেনি। পরের দিন সকালে স্থানীয়দের কয়েকজন মাঠে নিখোঁজ তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
.jpg.webp)
উত্তরপ্রদেশে তরুণীকে খুন
শেষ আপডেট: 2 June 2025 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের কাজেই শনিবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুরাদাবাদের বাসিন্দা সায়রা। কিন্তু কাজ সেরে আর বাড়ি ফেরা হল না। কয়েক ঘণ্টা পর এলাকার কাছেই একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ (UP Woman Stabbed 18 Times With Screwdriver)। তদন্ত এগোতেই মিসড কলের সূত্র ধরে অপরাধীকে ধরে ফেলে পুলিশ।
জানা যায়, শনিবার রাত হয়ে গেলেও সায়রা বাড়ি না ফেরায় তাঁর পরিবারের লোকেরা দুশ্চিন্তা করতে থাকে। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু সেই রাতে তরুণীর কোনও সন্ধান মেলেনি। পরের দিন সকালে স্থানীয়দের কয়েকজন মাঠে নিখোঁজ তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
মৃতদেহের গোপনাঙ্গে (Private Parts) আঘাতের চিহ্ন, রক্তের দাগ পাওয়া যায়। তাই প্রাথমিকভাবে পুলিশ অনুমান করেছিল, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তরুণীকে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়নি। স্ক্রু ড্রাইভার (Screwdriver) দিয়ে কমপক্ষে ১৮ বার আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তরুণীর।
তদন্তে নেমে তরুণীর মোবাইল ফোনের 'মিসড কল' (Missed Call) লিস্ট ধরিয়ে দিল অপরাধীকে! জানা যায়, মৃত সায়রার ফোনে রফি নামে এক ব্যক্তির পাঁচটি মিসড কল ছিল। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় সায়রাকে খুনের কথা স্বীকার করে ধৃত। কেন এই হত্যাকাণ্ড?
পুলিশকে দেওয়ার রফির বয়ানে বলা হয়েছে, 'সে সায়রাকে ভালবাসত। কিন্তু তিনি কোনওভাবেই প্রেমের প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। এমনকী দিন কয়েক আগে সায়রার এক পরিচিত তাকে মারধর করে বলেও অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করে রফি।'
সেই ঘটনার পর সায়রার সঙ্গে আবারও কথা বলার চেষ্টা করে রফি। কিন্তু তখনও তাঁকে এড়িয়ে যান তরুণী। শনিবার সায়রা বাড়ি থেকে বেরোলে তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করে যুবক। নির্জন মাঠে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে।
আরও জানা যায়, 'যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে প্রাণভিক্ষা করতে থাকে সায়রা, তখনও থেমে যায়নি রফি। স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আঘাত করা হয় তাঁর গোপনাঙ্গে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তরুণী। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় যুবক।' এরপর বাড়ি গিয়ে স্নান করে, পোশাক বদলে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে রফি। এই মুহূর্তে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে ধৃত। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।