এই মুহূর্তে সবথেকে বড় প্রশ্ন, তাহলে কি বাণিজ্য শুল্ক চাপানো নিয়ে ট্রাম্পের এতকালের তম্বির বেলুন একেবারে ফুটো হয়ে গিয়েছে। যদি হয়ে থাকে তাহলে কেন?

মঙ্গলবার নরম আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে।
শেষ আপডেট: 16 September 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক না-চাপানোয় মচকে গিয়েছে আমেরিকা। একাধিক আন্তর্জাতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে মঙ্গলবার নরম আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে। ট্রাম্পের দেশের হয়ে এই বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবেন সেদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চ। অন্যদিকে, ভারতের হয়ে দিনভর বৈঠকে হাজির থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রকের পদস্থ আমলা রাজেশ আগরওয়াল। এই মুহূর্তে সবথেকে বড় প্রশ্ন, তাহলে কি বাণিজ্য শুল্ক চাপানো নিয়ে ট্রাম্পের এতকালের তম্বির বেলুন একেবারে ফুটো হয়ে গিয়েছে। যদি হয়ে থাকে তাহলে কেন?
বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূলে বেশ কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, ট্রাম্প বুঝে গিয়েছেন যে, ক্ষমতার যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতকে হাতে রাখতেই হবে। কারণ, আমেরিকায় তৈরি হওয়া পণ্যের এক বিরাট বাজার রয়েছে ভারতে। আমেরিকার কাছ থেকে সাড়া না পেলে ভারত সেই হাত বাড়িয়ে দেবে চিন সহ অন্যান্য এশীয়, আরব দুনিয়া ও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয়-আফ্রিকার দেশের দিকে। তাতে ভারতের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না।
এমনিতেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে ফ্রান্স, রাশিয়া সহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে। তারমধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স, যোগাযোগ সহ আরও বেশ কিছু বিষয়। ফলে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হারাতে হলে আমেরিকাকে কয়েক হাজার বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে হবে। দেশের কারবারিরাই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে যাবেন।
এছাড়াও রয়েছে, ভারতের সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার সম্পর্ক। বিশেষত আমেরিকাকে রুখতে চিন নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক ঝালাই করার পর থেকে ট্রাম্প সমঝে গিয়েছেন যে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে যে দাপটের সঙ্গে অবতীর্ণ হতে চলেছিলেন, তা সম্ভবত হচ্ছে না। কারণ, সম্প্রতি শেষ হওয়া সাংহাই কোঅপারেশনের বৈঠকে চিন-ভারত-রাশিয়ার গলাগলি দেখে ট্রাম্প নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও গত বছরখানেকের মধ্যে ভারত আরব দুনিয়া ও আফ্রিকার এর বিশাল বাজারের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করেছে। যার ফলে তেমন কোনও অসুবিধার পাঁকে হাবুডুবু খাওয়ানো যাবে না। বিশেষত ভারত খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর দেশ। আর যে দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর, অর্থনীতিতে বলে, তাকে আর যাই হোক না খাইয়ে মারা যাবে না। উপরন্তু, আমেরিকার কাছ থেকে ভারতের প্রত্যক্ষ ঋণের পরিমাণও পাকিস্তান, বাংলাদেশ কিংবা শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারের মতো নয়।
বাকি রইল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের হাতিয়ার। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন সফরে রাজনৈতিক স্বার্থানুসন্ধানী বন্ধুত্ব হলেও ট্রাম্প সমঝে গিয়েছেন দুই কমিউনিস্ট দেশের সঙ্গে থাকবে ভারত। কারণ বিশ্ব রাজনীতির শক্তির মেরুকরণে ভারত যেদিকে হাত বাড়াবে, তার পাল্লা ভারী। অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর মতো দ্বিতীয় কোনও লেজুড় (যেমন ইজরায়েল) আমেরিকা পাচ্ছে না। রাশিয়া যেহেতু সহজ শর্তে ও দামে তেল সরবরাহ করছে, তাও ভারত হাতছাড়া করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে বাগাড়ম্বর বাণী ট্রাম্প এতকাল দিয়ে এসেছেন, সেই হিজ মাস্টার্স ভয়েস এবারে খানিকটা লঘু হয়েছে। গলা দিয়ে আর তেমন আওয়াজ বেরচ্ছে না, তাই করমর্দনের নামে হাত চুলকাতে এসেছেন ওয়াশিংটনের দূত।