গত ১৮ নভেম্বর থানায় গিয়ে স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন রুবি। কিন্তু প্রায় এক মাস পর, ১৫ ডিসেম্বর ঈদগাহ এলাকার কাছে একটি নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় একটি ক্ষতবিক্ষত দেহ। দেহের মাথা, হাত ও পা ছিল না। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2025 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় মীরাট (Meerut) এবং মেঘালয় (Meghalaya) কাণ্ডের কথা! প্রেমিকের সঙ্গে মিল স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন মহিলার। ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)।
স্বামীর (Husband) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নিজেই। পরে জানা গেল, সেই অভিযোগের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল ভয়াবহ এক খুনের কাহিনি। অবৈধ সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর স্বামীকে পিটিয়ে খুন (Murder of Husband) করে দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলার অভিযোগে এক মহিলা ও তাঁর প্রেমিককে (Woman and her Lover) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম রুবি এবং গৌরব। গত ২০ ডিসেম্বর তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে দু’জনেই জেল হেফাজতে (Jail Custody) রয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তি রাহুল (৩৮), চন্দৌসির চুন্নি মহল্লার বাসিন্দা।
তদন্তকারীদের দাবি, গত ১৮ নভেম্বর থানায় গিয়ে স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন রুবি। কিন্তু প্রায় এক মাস পর, ১৫ ডিসেম্বর ঈদগাহ এলাকার কাছে একটি নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় একটি ক্ষতবিক্ষত দেহ। দেহের মাথা, হাত ও পা ছিল না। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত (Postmortem) করায়। ফরেন্সিক পরীক্ষার পাশাপাশি ডিএনএ নমুনাও (DNA) সংগ্রহ করা হয়। তদন্তের সময় দেহের গায়ে ‘রাহুল’ নাম লেখা রয়েছে বলে নজরে আসে তদন্তকারীদের। আশপাশের থানাগুলিতে নিখোঁজ সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হলে রুবির করা অভিযোগের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, রাহুলের মোবাইল ফোন ১৮ নভেম্বর থেকেই বন্ধ।
এরপরেই সন্দেহের তির ঘোরে রুবির দিকে। পুলিশ তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মনোবল হারিয়ে ভয়াবহ অপরাধের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। পুলিশের দাবি, স্বামী রাহুল তাঁদের অবৈধ সম্পর্ক ধরে ফেলায়, প্রেমিক গৌরবের সঙ্গে মিলে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন রুবি।
পুলিশ জানিয়েছে, লোহার রড ও লোহার শিলনোড়া দিয়ে রাহুলকে আঘাত করে ঘটনাস্থলেই খুন করা হয়। এরপর একটি কাঠ কাটার গ্রাইন্ডার এনে দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। দেহের একাংশ ফেলে দেওয়া হয় ঈদগাহ এলাকার নর্দমায়, বাকি অংশ রাজঘাট থেকে গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে ব্যবহৃত গ্রাইন্ডার, লোহার হাতুড়ি ও অন্যান্য অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে রাহুলের সন্তানদের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত এখনও চলছে।