১১ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২৯-এর রাজা ও ২৫ বছরের সোনম। ২০ মে দম্পতি মেঘালয় যান হানিমুনে। কয়েকদিন পরই নিখোঁজ হয়ে যান রাজা।

রাজা সোনম
শেষ আপডেট: 6 September 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর চাঞ্চল্যকর হানিমুন খুনের ঘটনায় অবশেষে তদন্ত শেষ করল মেঘালয় পুলিশ। তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্তের পর ৭৯০ পাতার চার্জশিট জমা পড়েছে আদালতে। এই ঘটনায় রাজা রঘুবংশীর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী ও তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ পাঁচজনকে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও তিনজন সহ-অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর।
১১ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২৯-এর রাজা ও ২৫ বছরের সোনম। ২০ মে দম্পতি মেঘালয় যান হানিমুনে। কয়েকদিন পরই নিখোঁজ হয়ে যান রাজা। অবশেষে ২ জুন উইসাডং জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। নিখোঁজের মামলা মুহূর্তে রূপ নেয় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে।
তদন্তে উঠে আসে, সোনম তাঁর প্রেমিক ও কোম্পানির হিসেবরক্ষক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে পরিকল্পনা করেছিলেন রাজাকে খুন করার। বিয়ের আগেই এই ষড়যন্ত্র পাকাপাকি হয়। প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা হয় তিন সুপারি কিলার- আকাশ রাজপুত, বিশাল চৌহান ও আনন্দ কুর্মীকে। পরিকল্পনা ছিল হানিমুনের সময় ‘ডাকাতির নাটক’ সাজিয়ে রাজাকে খুন করা।
কীভাবে ঘটল খুন?
উইসাডং জলপ্রপাতের কাছে ট্রেকিং-এর সময় আচমকা হামলা চালায় ভাড়াটে খুনিরা। প্রথমে রাজাকে মাচেটি দিয়ে দু’বার কোপানো হয় মাথায়, তারপর দেহ ফেলে দেওয়া হয় গভীর খাদে। এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সোনমও। অভিযোগ, খুনের পরই তিনি মাকে ফোন করেন, দু’জনের মোবাইল বন্ধ করে তড়িঘড়ি ইন্দোরে ফিরে যান।
গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি
প্রথমে আত্মগোপনে চলে যান সোনম। কিন্তু ৮ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে আত্মসমর্পণ করেন। এর একদিন আগেই পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা ও তিন সুপারি কিলারকে। জেরার সময় একাধিক অসঙ্গতি ও অস্বাভাবিক আচরণ তাঁকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। শেষমেশ স্বীকারোক্তিও দেন।
কোন কোন ধারায় মামলা হয়?
চার্জশিটে পাঁচ অভিযুক্তের নাম রয়েছে খুন (ধারা 103(1) BNS), প্রমাণ নষ্ট (ধারা 238(a) BNS) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা 61(2) BNS)-এর অধীনে। এছাড়া প্রপার্টি ডিলার সিলোমে জেমস, বাড়ির মালিক লোকেন্দ্র তোমর ও সিকিউরিটি গার্ড বলবীর অহিরওয়ার-এর বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট জমা পড়বে শিগগিরই।
এখন আদালতে শুরু হবে বিচার। বহু আলোচিত এই খুনের মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।