ক্লাস ৮ পাশ করেননি মুসকান। এত বছরে নতুন করে পড়াশোনা করার কথাও তার মাথায় আসেনি।

মুসকান রাস্তোগী
শেষ আপডেট: 31 May 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুসকান রাস্তোগী (Muskan Rastogi)। মীরাটের বাসিন্দা কয়েক মাস আগে এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন (Meerut Murder Case) যা দেশজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে নিজের স্বামীকে খুন করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর মৃতদেহ টুকরো করে নীল ড্রামে ভরে রেখেছিলেন। বর্তমানে মুসকান এবং তার প্রেমিক সাহিলের ঠিকানা জেল। যদিও এত বড় ঘটনা ঘটানোর পর কোনও অনুতাপই নেই মুসকানের। বরং তিনি এখন আইন (Law) নিয়ে পড়তে চান।
ক্লাস ৮ পাশ করেননি মুসকান। এত বছরে নতুন করে পড়াশোনা করার কথাও তার মাথায় আসেনি। কিন্তু এখন স্বামীকে খুন করে নীল ড্রামে তার টুকরো করা দেহ রেখে ধরা পড়ার পর তার ইচ্ছে হয়েছে আইন নিয়ে পড়ার! কেন এত কিছু থাকতে আইন নিয়ে পড়তে চান মুসকান? তার পিছনেও রয়েছে বিশেষ কারণ। আসলে জেল থেকে মুক্ত হতে চান তিনি।
এত ঘৃণ্য অপরাধ করার পরও সংবিধান অনুযায়ী মুসকানের হয়ে লড়াই করছেন এক আইনজীবী। কিন্তু তাঁর কাজে নাকি খুশি নন মুসকান। তাই আদালতে নিজের হয়ে লড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। জেল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে আইন নিয়ে পড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন মুসকান। তিনি চান, তাঁর হয়ে যেন আর অন্য কেউ না লড়াই করেন। নিজেই নিজেকে বাঁচিয়ে জেলমুক্ত হতে চান তিনি।
জেল কর্তৃপক্ষের অবশ্য বক্তব্য, আইন পড়ার জন্য যে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে তা নেই মুসকানের। তিনি অষ্টম শ্রেণীই পাশ করেননি, গ্র্যাজুয়েট হওয়া দূর। তাই কোনও ভাবেই তার আইন নিয়ে পড়া সম্ভব নয়। যদিও তা একান্তই পড়তে চাইলে আগে ন্যূনতম শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ক্লাস ১২ পাশ করতে হবে। তারপরে তিনি এলএলবি কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। সেক্ষেত্রে কোনও ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়তে পারেন মুসকান। আর এক্ষেত্রে জেল কর্তৃপক্ষ তাকে সাহায্য করবে বলে জানান হয়েছে।
চলতি বছর মার্চ মাসে মীরাট কাণ্ড প্রকাশ্য আসে। বিদেশের চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে ভারতে ফিরেছিলেন সৌরভ। ফেরার ১০ দিনের মধ্যেই তাঁকে খুন করেন মুসকান এবং সাহিল। তারপর সৌরভের দেহ টুকরো করে একটি নীল ড্রামে ভরে তারা চলে গেছিলেন হিমাচল প্রদেশে! ফিরে এসে সেই নীল ড্রাম সরানোর জন্য লোক ডেকেছিলেন তারা। সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। ড্রামের ঢাকনা খুলে যাওয়ায় দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। পরিষ্কার হয়ে যায়, কী ঘটিয়েছন দুজনে।