দেরাদুনবাসী ওই পরিবারের ব্যবসা বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্ষতির মুখে পড়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 May 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাড়ির ভিতরেই বিষ খেয়ে সপরিবারে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে হরিয়ানার পাঁচকুলায় (Haryana Family Suicide Case)। প্রবীণ মিত্তল এবং তাঁর পরিবারের ৬ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাড়ি থেকে। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী কারণে তাঁরা আত্মহত্যা করলেন সেই প্রশ্নের পোক্ত উত্তর এখনও পায়নি পুলিশ। তবে প্রবীণের এক আত্মীয়র কথা শুনে আত্মহত্যার কারণ অনুমান করা যাচ্ছে।
দেরাদুনবাসী ওই পরিবারের ব্যবসা বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্ষতির মুখে পড়েছিল। ঋণের বোঝা (Debt) বাড়তে থাকায় ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করে এবং প্রবীণের কারখানা বাজেয়াপ্ত করে নেয় বলে খবর পেয়েছে পুলিশ। এই প্রসঙ্গে প্রবীণেরই আত্মীয় (Relative) সন্দীপ আগরওয়াল এক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, শুধু কারখানা নয়, প্রবীণের দুটি ফ্ল্যাট এবং গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছিল ব্যাঙ্ক। সবমিলিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিল সে।
সন্দীপের কথায়, ''গত ৫ বছর ধরে প্রবীণ কারও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রাখেনি। তাঁর বাজারে অন্তত ২০ কোটি টাকা দেনা হয়ে গেছিল এবং তা শোধ দিতে না পারায় খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল প্রবীণকে। সেই নিয়েই হয়তো আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছিল সে এবং তাঁর পরিবার। যার জেরে এই ঘটনা।'' এদিকে আত্মহত্যার আগে একটি নোট লিখে গেছেন প্রবীণ। তাতে সন্দীপকেই তাঁর শেষকৃত্য করার কথা বলে গেছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচকুলায় প্রবীণরা এসেছিলেন একটি ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে। বাগেশ্বরধামে পুজো সেরে দেরাদুনে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। পুলিশের অনুমান, তাঁরা কোনও হোটেলে ঢুকে বিষ খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় হয়তো কোনও হোটেল খোলা ছিল না। তাই তাঁরা রাস্তার ধারে একটি বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে সেখানেই বিষ খান।
পথচারীরা গাড়ি খুলে দেখতে পান ভিতরে তিন শিশুসহ মোট ৬ জন মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। প্রত্যেকে একে অপরের গায়ে বমি করেছেন শেষ অবস্থায়। ভিতর থেকে ভয়ানক দুর্গন্ধ ভেসে আসছে। তখন গাড়ির বাইরের লোকটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, তাঁরা একসঙ্গে আত্মহত্যার পরিকল্পনা কষেছিলেন। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনিও মারা যাবেন। স্থানীয়রা সকলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁদের।