মার্কিন শুল্কচাপের মুখে রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায়, মধ্যবিত্তের ঘাড়ে যাতে বাড়তি বোঝা না চাপে, সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন শুল্কচাপের মুখে রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায়, মধ্যবিত্তের ঘাড়ে যাতে বাড়তি বোঝা না চাপে, সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলিকে অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকার ভরতুকি প্রস্তাব অনুমোদন করা হল। এর ফলে গেরস্তের ব্যবহৃত রান্নার গ্যাস সরবরাহে যাতে কোম্পানিগুলির ক্ষতিপূরণ হয়, সেই উদ্দেশ্যে ১২টি কিস্তিতে এই পরিমাণ টাকা ভরতুকি দেওয়া হবে।
ঠিক হয়েছে, কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এই ক্ষতিপূরণ দেবে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন ও হিন্দুস্থান পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডকে। সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল, আন্তর্জাতিক বাজারে লিকুইড পেট্রলিয়াম গ্যাসের দাম পরিবর্তন হলেও যাতে গ্রাহকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলিকে যাতে ক্ষতির মাশুল না গুনতে হয়।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একথা জানান মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এই ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যবিত্তদের হেঁসেলে যাতে সুলভ দামে রান্নার গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে, সেই কারণেই ৩০ হাজার কোটি টাকার ভরতুকি মঞ্জুর করেছে মন্ত্রিসভা। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গ্যাসের দাম ওঠাপড়া করছে এবং ভবিষ্যতেও করতে পারে। সেসব দিক মাথায় রেখে ভরতুকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান অশ্বিনী বৈষ্ণব।
রান্নার গ্যাস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছয় সরকার নিয়ন্ত্রিত দামে। ২০২৪-২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র দাম বেশ চড়ে রয়েছে। কিন্তু, কেন্দ্র এখনও সেই দামের বোঝা গৃহস্থের উপর চাপায়নি। এমনকী গ্যাসের সরবরাহেও কোনও ঘাটতি দেখা দেয়নি। এই ভরতুকির ফলে কোম্পানিগুলির অপরিশোধিত তেল কেনা, ঋণশোধ এবং বিনিয়োগের কাজে অনেক সুরাহা হবে। রান্নার গ্যাস সরবরাহেও কোনও ঘাটতি দেখা দেবে না।