ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা রাতভর বৈঠকের শেষে ভোররাতের দিকে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গাজ দখলের ছক অনুমোদন করেছে।

ইজরায়েলের গাজা দখল অভিযানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আরও বিপন্ন হতে পারেন বলে আশঙ্কা।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর প্যালেস্তাইনের অন্তর্গত গাজা শহর দখলে সামরিক অভিযানে শেষ কামড় দিতে চলেছে ইজরায়েলি বাহিনী। ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা রাতভর বৈঠকের শেষে ভোররাতের দিকে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গাজ দখলের ছক অনুমোদন করেছে। গাজা সহ প্যালেস্তাইন জুড়ে ইজরায়েলি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হানায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। যার ফলে দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে হাহাকার করছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে হামাস জঙ্গি নিধনের নামে আমেরিকা সহ মিত্রবাহিনীর সবুজ সঙ্কেত নিয়ে ইজরায়েলের গাজা দখল অভিযানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আরও বিপন্ন হতে পারেন বলে আশঙ্কা।
গাজা দখল অভিযানে বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতি বলা হয়েছে, ইজরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা শহর দখলের জন্য যেন প্রস্তুত থাকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার বাইরে যেন ত্রাণ শিবিরের কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারেও সেনাকে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু, বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে প্রায় রোজ ইজরায়েলি বোমা বর্ষণে ত্রাণের কাজই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের দল খাদ্য পৌঁছে দিতে পারছে না। বহু জায়গায় ত্রাণ শিবিরের লাইনেও আক্রমণ চলছে আকাশ থেকে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তকে বন্ধুদেশ ব্রিটেন সঠিকভাবে নেয়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার বলেছেন, ইজরায়েলের গাজা দখলের পরিকল্পনা ভুল। এর ফলে দীর্ঘকালের সংঘর্ষের শেষ হবে না এবং হামাসের হাতে বন্দিরাও ছাড়া পাবে না। এর ফলে শুধু রক্ত ঝরবে। গাজা দখলের পরিকল্পনায় চিনও তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বেজিং প্রশাসন বলেছে, এই মুহূর্তে এ ধরনের বিপজ্জনক পদক্ষেপ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। ইজরায়েল যেন এই পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকে। বেজিংয়ের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজা হল প্যালেস্তিনীয়দের শহর। এবং প্যালেস্তাইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
জার্মান সরকার শুক্রবার জানিয়ে দিয়েছে, ইজরায়েলকে তারা যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখছে। গাজা খাঁড়ি এলাকা দখলের কাজে ব্যবহার হতে পারে এমন অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্ৎজ এক বিবৃতিতে বলেন, ইজরায়েলের অধিকার রয়েছে হামাস জঙ্গিদের প্রতিরোধ করা। বন্দিদের মুক্তি এবং সংঘর্ষ বিরতির আলোচনা আমাদের অগ্রাধিকার। কিন্তু, ইজরায়েলের ক্যাবিনেট যে প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে তা পরিস্থিতি আরও বিগড়ে দেবে। অন্যদিকে, গাজা দখলের সিদ্ধান্তকে যুদ্ধাপরাধ বলে ব্যাখ্যা করেছে হামাস গোষ্ঠী।