শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের সীতামঢ়ীতে জানকী মন্দিরের ভূমিপুজো করলেন। রাজ্যের জেডিইউ নেতা, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। সীতামঢ়ীর পুনৌরা ধামে গড়ে উঠবে সীতার মন্দির।

অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামমন্দিরের পর এবার সীতামাইয়ার জন্মস্থানে জানকী মন্দির। বিহার বিধানসভা ভোটের আগে ফের ধর্মের তাস বিজেপির। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের সীতামঢ়ীতে জানকী মন্দিরের ভূমিপুজো করলেন। রাজ্যের জেডিইউ নেতা, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। সীতামঢ়ীর পুনৌরা ধামে গড়ে উঠবে সীতার মন্দির। এদিন তারই শিলান্যাস প্রতিষ্ঠা হল। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মিথিলার এই জায়গায় জন্ম নিয়েছিলেন সীতা।
কথায় আছে দিল্লিজয়ের যাত্রা শুরু হয় উত্তরপ্রদেশ থেকে। আর পাটলিপুত্রের সিংহাসন ঠিক করে মিথিলা। এই এলাকায় এককালে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি-র প্রতিপত্তি ছিল। এখন লালু-তেজস্বী যাদবের সেই দুর্গ গুঁড়িয়ে মিথিলা শাসন করে জেডিইউ-বিজেপি জোট। এদিন অমিত শাহ জানকী মন্দিরের ভূমিপুজো করে সেই দুর্গ আরও মজবুত করার ভিত গড়ে দিলেন।
পুনৌরা ধামে ৬৭ একর জমির উপর গড়ে উঠবে সুদৃশ জানকী মন্দির। এখানে সীতার জন্মস্থান বলে একটি ছোট্ট মন্দির দীর্ঘদিন ধরেই আছে। তবে নতুন বিশালাকারের মন্দিরটি মাত্র ১১ মাসেই গড়ে উঠবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, তার আগে আগামী নভেম্বরেই সম্ভবত অনুষ্ঠিত হবে বিধানসভা ভোট।
অনুষ্ঠানের ভাষণে শাহ মিথিলা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুবিশাল পরম্পরার বর্ণনা দেন। রামায়ণে লিখিত এদিনটির কথা স্মরণ করে বলেন, এই সেই পবিত্র দিন যেদিন রাজা জনক ভূমিকর্ষণ করে মা জানকীকে পেয়েছিলেন। এখানে নতুন মন্দির স্থাপনায় ৮৯০ কোটি ব্যয় হবে। এর মধ্যে ১৩৭ কোটি টাকায় পুরনো মন্দিরের আমূল সংস্কার করা হবে।
একই সঙ্গে অমিত শাহ অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। কংগ্রেসের নাম না করে বলেন, একটা সময় ছিল যখন দেশের যে কোনও জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ হতো। জঙ্গিরা পালিয়ে যেত। কিন্তু মোদী আসার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে, এয়ারস্ট্রাইক হয়েছে আর এখন অপারেশন সিঁদুর হল। অথচ, এখানে লালু অ্যান্ড কোম্পানি সংসদে অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করল। লালু কোম্পানি জানে না, মোদী সরকারের আমলে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে খেলা করার অধিকার কারও নেই।
অমিত শাহ ভোটার তালিকা সংশোধনী নিয়ে বলেন, আপনারাই বলুন অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত কি না! নির্বাচন কমিশন অবৈধভাবে ঢুকে পড়া লোক বাদ দিয়ে তালিকা তৈরি করবে কি না! লালুপ্রসাদজি আপনি আমায় বলুন, কাদের আড়াল করতে চাইছেন আপনারা, প্রশ্ন তোলেন শাহ।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে বলেন, রাহুলজি এই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি বন্ধ করুন। ভোটার শুদ্ধি এই প্রথমবার হচ্ছে না দেশে। আপনার ঠাকুমার বাবাই প্রথম এটা চালু করেছিলেন এবং শেষবার হয়েছিল ২০০৩ সালে। আপনি প্রতি ভোটে হেরে যাচ্ছেন, তাই হারের কারণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। শাহ আরও সুর চড়িয়ে বলেন, রাহুল বাবা! আপনি সংবিধান হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওটা খুলে একবার পড়ে দেখুন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা যায় না, ওতে লেখা আছে। সংবিধান অবৈধ অনুপ্রবেশেও সম্মতি দেয় না।