কমিশন (Election Commission) শুক্রবার ফের মুখ্য সচিবকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল, নবান্নকে অবিলম্বে ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 22:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু’দিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লাগাতার বলে চলেছেন, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) চার জন অফিসার ও একজন ডেটা এন্ট্রি কর্মীর বিরুদ্ধে সাসপেনশনের (Officers Suspend) নির্দেশ দিলেও নবান্ন (Nabanna) তা মানতে বাধ্য নয়। নবান্ন কাউকে সাসপেন্ড করবে না। কিন্তু কমিশন শুক্রবার ফের মুখ্য সচিবকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল, নবান্নকে অবিলম্বে ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু তাই নয়, ১১ অগস্ট সোমবার বিকেল ৩টের মধ্যে কমিশনকে এ ব্যাপারে রিপোর্টও দিতে হবে।
বারুইপুর পূর্ব (১৩৭) এবং ময়না (২০৬) বিধানসভা কেন্দ্রের ফর্ম-৬ আবেদন নিষ্পত্তিতে অনিয়মের অভিযোগে কদিন আগে কঠোর পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল, এই দুই কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা চারজন নির্বাচন অফিসার ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কমিশনের তরফে রাজ্য সরকারকে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও (ERO) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, সহকারী ইআরও (AERO) তথাগত মন্ডল, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার ও এআইআরও সুদীপ্ত দাসকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
শুক্রবার ফের এ ব্যাপারে মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্য সরকারের সচিব সুজিত মিশ্র। চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, ওই চারজন আধিকারিক ছাড়াও ফর্ম-৬ প্রসেসিংয়ে যুক্ত ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করতে হবে।
কমিশনের মতে, এতদিন পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের তরফে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও পদক্ষেপের রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা পড়েনি। তাই ফের জানানো হয়েছে, দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ১১ই আগস্ট ২০২৫, দুপুর ৩টার মধ্যে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
কমিশনের এই চিঠিতেই পরিষ্কার যে রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে এ ব্যাপারে শঠে শাঠ্যং শুরু হয়ে গেছে। এই সংঘাতের শেষ কোথায় তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কমিশনের এই নির্দেশ মানতে রাজ্য বাধ্য নয়। কমিশনের পাল্টা বক্তব্য, রাজ্য সরকারের যে অফিসাররা ডেপুটেশনে নির্বাচন কমিশনের জন্য কাজ করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার এক্তিয়ার তাদের রয়েছে। বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়ায় কিনা সেটাই দেখার।