আডবাণীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে তারুর বলেন, ‘‘একটা ঘটনার নিরিখে তাঁর জনসেবার মূল্যায়ন করা অন্যায়।’’

আডবাণী ও শশী তারুর
শেষ আপডেট: 9 November 2025 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর (LK Advani) ৯৮তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর (Shahi Tharoor Birthday)। আডবাণীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে তারুর বলেন, ‘‘একটা ঘটনার নিরিখে তাঁর জনসেবার মূল্যায়ন করা অন্যায়।’’
এক্স-এ তিনি লেখেন, “আডবাণীজির দীর্ঘ জনজীবনকে একমাত্র একটি ঘটনার ভিত্তিতে বিচার করা অন্যায্য। যেমন নেহরুজিকে কেবল চিন যুদ্ধের পরাজয়ের জন্য বিচার করা যায় না, বা ইন্দিরা গান্ধীর সমগ্র কর্মজীবনকে জরুরি অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না, তেমনই সুবিচার আডবাণীজিকেও করা উচিত।”
এর আগে তারুর এক্স-এ লেখেন, “শ্রদ্ধেয় এল কে আডবাণীজিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। জনসেবার প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকার, বিনয় ও শালীনতা, এবং আধুনিক ভারতের গঠনে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। সত্যিকারের এক রাষ্ট্রনায়ক।”
তবে তারুরের এই প্রশংসা বিতর্কও ডেকে এনেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, তিনি নাকি আডবাণীর বিভাজনমূলক রাজনীতিকে “হোয়াইট ওয়াশ” করে দিচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে লিখেছেন, “দেশে ঘৃণার বীজ বপন জনসেবা নয়।” এর জবাবে তারুর লেখেন, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক মূল্যায়নে ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গিই জরুরি।
উল্লেখ্য, আডবাণীর নেতৃত্বে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া ‘রথযাত্রা’ই পরে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অগ্নিগর্ভ পরিবেশ তৈরি করেছিল। সঞ্জয় হেগড়ে সেই প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “রথযাত্রা ছিল শুধু একটি যাত্রা নয়, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি ভাঙার দীর্ঘ অভিযাত্রা।”
অন্যদিকে, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে আডবাণীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মোদী লিখেছেন, ‘অনেক দিন পর লালকৃষ্ণ আডবাণীর বাসভবনে গিয়েছিলাম। ওঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। দেশের প্রতি ওঁর অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। যা আজও আমাদের প্রতি নিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়।’ শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, লালকৃষ্ণ আডবাণীকে ৯৮ বছরের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
উল্লেখ্য, ১৯২৭ সালে অবিভক্ত ভারত ও বর্তমানের পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম হয় লালকৃষ্ণ আডবাণীর। পরবর্তীতে দেশভাগের মতো ঘটনা তাঁকে অন্তর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। লালকৃষ্ণ আডবাণীর প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা করাচি। পরবর্তীতে নিজের কিশোর বেলাতেই সঙ্ঘ পরিবারে যোগদান করেন তিনি। ১৪ বছর বয়স আরএসএস-এর হয়ে ময়দানে নেমে কাজ শুরু করেন আডবাণী। পরবর্তীতে পেশা হিসাবে দীর্ঘ কয়েক বছর সাংবাদিকতা করেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। তারপর রাজনীতি।