কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি এই ঘটনায় যার পর নাই খুশি হলেও কংগ্রেস নেতারা যথারীতি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেক নেতার নাম করে পরিবারতন্ত্রের দৃষ্টান্তের কথা শুনিয়েছেন।

এক নিবন্ধে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে আবার নিশানা করেছেন কেরলের তিরুবনন্তপুরমের এমপি।
শেষ আপডেট: 4 November 2025 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেওয়ালি, ছট পুজোর পর বিহার বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে পরিবারবাদ নিয়ে ফের পটাকা ছাড়লেন দলের কীর্তিমান এমপি শশী তারুর। কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি এই ঘটনায় যার পর নাই খুশি হলেও কংগ্রেস নেতারা যথারীতি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেক নেতার নাম করে পরিবারতন্ত্রের দৃষ্টান্তের কথা শুনিয়েছেন। তবে কংগ্রেস নেতাদের মুখে পরিবারতন্ত্রের যে উদাহরণগুলি এসেছে, তার মধ্যে যেমন অমিত শাহের নাম এসেছে, তেমনই ইন্ডিয়া জোটের শরিক নেতারাও রয়েছেন। যেমন- পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ছাড়াও তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন, মহারাষ্ট্রের উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে প্রমুখ। বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি তো আছেই।
এক নিবন্ধে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে আবার নিশানা করেছেন কেরলের তিরুবনন্তপুরমের এমপি। তারুরের কথায়, জওহরলাল নেহরু থেকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি দেশের বিপুল ক্ষতি করেছে। তাঁর কথায়, এর ফলে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে যে, রাজনীতিতে বড় জায়গা দখল করা কোনও কোনও পরিবারের সদস্যদের জন্মগত অধিকার।
বিজেপি এরপরেই ময়দান দখলে নেমে বলেছে, ভারতের ‘নেপো কিড’ রাহুল গান্ধী এবং ‘ছোটা নেপো কিড’ তেজস্বী যাদবকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন তারুর। এর জবাবে সরকারিভাবে কংগ্রেস এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও দলের বিশিষ্ট নেতারা নানান জবাব দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ বলেন, পরিবারতন্ত্র শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। গোটা দেশেই ছড়িয়ে আছে এর উদাহরণ।
তিনি বলেন, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হন, ব্যবসায়ীপুত্র বাবার ব্যবসায় ঢোকেন। ফলে রাজনীতিটা কোনও ব্যতিক্রম নয়। রাজ আরও বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তো এই দলেই রয়েছেন। এরপরেই উদিত রাজ নাম করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, নাইডু থেকে পাওয়ার, ডিএমকে থেকে মমতা, মায়াবতী থেকে অমিত শাহের ছেলে, অসংখ্য উদাহরণ আছে। আরেক কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তেওয়ারি নেহরু-গান্ধী পরিবারের পক্ষ নিয়ে বলেন, নেতৃত্ব আসে যোগ্যতা থেকে। পণ্ডিত নেহরু দেশের যোগ্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ইন্দিরা গান্ধী তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের জন্য। রাজীব গান্ধীও তাই।
প্রমোদ তেওয়ারি বলেন, যদি গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্র নিয়ে কেউ কথা বলেন, তিনি যেন এই পরিবারের ত্যাগের দিকটিও মাথায় রাখেন। দেশের কটা পরিবার আছে, এভাবে আত্মত্যাগ করতে পেরেছেন দেশের জন্য? বিজেপির কেউ আছেন এই তালিকায়, প্রশ্ন তুলেছেন তেওয়ারি। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেন, মানুষ ভোট দিলে যে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারেন। গণতন্ত্রে এটাই দস্তুর। আর পরিবারের ভিতর থেকে ভোটে দাঁড়ালে তাতেও কেউ আটকাতে পারে না। গণতন্ত্রে মানুষই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক। ফলে কারও বাবা এমপি বলে তাঁর ছেলেকে ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার থেকে রোখা যায় না।