উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) লখনউয়ের বাসিন্দা শাহিন পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের দাবি, নিয়মভঙ্গ করলেও তাঁর জঙ্গি যোগের কথা কেউই ভাবতে পারেননি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Blast) নেপথ্যে উঠে আসছে ফরিদাবাদ মডিউলের নাম। তদন্তকারী সংস্থার একাংশ মনে করছে, দিল্লি ও ফরিদাবাদের দুই ঘটনার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরিদাবাদ (Faridabad Arrest) থেকে গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক শাহিন শাহিদকে জেরা করে মিলেছে দুই ঘটনার যোগসূত্রের ইঙ্গিত।
উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) লখনউয়ের বাসিন্দা শাহিন পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের দাবি, নিয়মভঙ্গ করলেও তাঁর জঙ্গি যোগের কথা কেউই ভাবতে পারেননি। তবে শাহিনের জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, বিস্ফোরণের মূল সন্দেহভাজন উমর নবির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। উমরও পেশায় চিকিৎসক, যিনি শাহিন, আদিল মজিদ ও মুজাম্মিল আহমেদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতেন।
শাহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই চার চিকিৎসক ফরিদাবাদের ওই কলেজের মাধ্যমেই একে অপরকে চেনেন। নিয়মিত বৈঠকে উমর নাকি দেশে বড়সড় বিস্ফোরণের পরিকল্পনার কথা বলতেন। গত দু’বছর ধরে তাঁরা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জোগাড় করছিলেন। সম্প্রতি ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উপাদান এবং দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনার মধ্যে যোগ থাকতে পারে বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের।
লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ হওয়া গাড়িটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও উমর ঘাতক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, বিস্ফোরণের সময় কমলা রঙের আগুন দেখা গেছে যাতে মনে করা হচ্ছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফরিদাবাদ মডিউলের সূত্র প্রথম মেলে গত ১৯ অক্টোবর, যখন শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে চিকিৎসক আদিলকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জেরা করলে উঠে আসে শাহিন, মুজাম্মিল ও উমরের নাম। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে, দেশের বড় বড় শহরে হামলার পরিকল্পনা ছিল। সেইজন্য কয়েক মাস ধরেই বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছিল। তবে হয়তো তাড়াহুড়ো বা ভুলবশত আগেই বিস্ফোরণ ঘটে যায়, যার ফলে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। বিস্ফোরণের পর থেকেই লালকেল্লা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার নেপথ্যে জইশ-ই-মহম্মদের হাত থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে জোরালো। কারণ, ধৃত চিকিৎসক শাহিন জইশের মহিলা শাখার ভারতীয় মুখ ছিলেন বলেই দাবি গোয়েন্দাদের। কয়েকদিন ধরেই নানা পরিকল্পনা চলছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভূটান সফর থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "ষড়যন্ত্রকারীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসের শিকড়ে গিয়ে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আনা হবে।"