পেশায় ই-রিকশা চালক ওই ব্যক্তি, দু'বছর আগেই স্ত্রী সুলতানা ও দুই সন্তানকে নিয়ে কাজের খোঁজে রাজধানীতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু সেই শহরই কেড়ে নিল তাঁর জীবন। এদিকে, মৃত্যুর পর মৃতদেহের শেষকৃত্য ঘিরে শুরু হয় পারিবারিক বিবাদ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সোমবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রাণ হারিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মীরাটের বাসিন্দা মহসিন। পেশায় ই-রিকশা চালক ওই ব্যক্তি, দু'বছর আগেই স্ত্রী সুলতানা ও দুই সন্তানকে নিয়ে কাজের খোঁজে রাজধানীতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু সেই শহরই কেড়ে নিল তাঁর জীবন। এদিকে, মৃত্যুর পর মৃতদেহের শেষকৃত্য ঘিরে শুরু হয় পারিবারিক বিবাদ। নিহত ব্যক্তির পরিবার চায় তাঁদের মিরাটের বাড়িতেই অন্তিম বিদায় জানানো হোক ছেলেকে কিন্তু মহসিনের স্ত্রীর দাবি, শেষকৃত্য দিল্লিতেই (Delhi) হবে।
মঙ্গলবার মহসিনের মরদেহ যখন মীরাটে তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়, তখনই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। শোকের আবহে শুরু হয় তীব্র বিবাদ, কোথায় হবে শেষকৃত্য? পরিবারের দাবি ছিল, মহসিনের জন্মস্থান মীরাটেই কবর দেওয়া হবে তাঁর মরদেহ। কিন্তু স্ত্রী সুলতানা জোর দিয়ে বলেন, তাঁর স্বামীর কবর হবে দিল্লিতে, যেখানে তিনি থাকতেন, রোজগার করতেন।
সুলতানার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের অন্য সদস্যরা। মা ও ভাই-বোনেরা অনুরোধ জানান, ছেলের দেহ এখানেই কবর দেওয়া হোক। প্রতিবেশীরাও সুলতানাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত পরিবারের অমত সত্ত্বেও সুলতানা তাঁর স্বামীর দেহ নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যে ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরকে ঠাসা একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি ফেটে আশেপাশেও আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন, আহতের সংখ্যা অন্তত ২০। নিহতদের মধ্যেই একজন ছিলেন মহসিন।
তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি ছিল উমর নামের এক চিকিৎসকের। তদন্তকারীদের অনুমান, বিস্ফোরণের ঘটনাটি কোনও আত্মঘাতী হামলা নয়, জঙ্গি সন্দেহভাজন আতঙ্কিত হয়েই বিস্ফোরণ ঘটায়। সেদিন সকাল পর্যন্তই জঙ্গি সন্দেহে তিনজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই আতঙ্কে উমর ঘাবড়ে গিয়ে ভুলবশত বিস্ফোরণ ঘটায়। আর এই বিস্ফোরণে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ ও দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চলছে। সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।