রাজনীতির দুই গান্ধী পরিবারকে (Gandhi Family) অনেক দিন পর এক সুরে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে রাজনীতির অঙ্গনের বাইরের একটি বিষয়। দিল্লিতে পথ কুকুর মুক্ত করতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ের বিরুদ্ধে দিনের দিন মুখ খুলেছিলেন রাহুল এবং ইন্দিরার ছোট ছেলে প্রয়াত সঞ্জয়ের স্ত্রী মেনকা।

কুকুর নিয়ে এক সুর দুই গান্ধী পরিবারের
শেষ আপডেট: 13 August 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে খুড়তুতো ভাই বরুণের যোগাযোগ আছে। উৎসব অনুষ্ঠানে কাকিকা অর্থাৎ বরুণের মা মানেকার সঙ্গেও ফোনে কথা হয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার (Rahul Gandhi-Sonia Gandhi)। মুখোমুখি দেখাসাক্ষাৎ বন্ধ। বছর পঁয়তাল্লিশ আগে মানেকা শ্বশুর বাড়ি অর্থাৎ ইন্দিরার সংসার থেকে বেরিয়ে আসার পর বড় জা সনিয়ার সঙ্গে কথা হয়নি মানেকার।
পারিবারিক বিবাদ কালের নিয়মে মিটে গেলেও রাজনৈতিক বিভেদ আছেই। মানেকা ও বরুণ বহুকাল বিজেপিতে। মা এখনও সাংসদ। ছেলে প্রাক্তন সাংসদ।
রাজনীতির দুই গান্ধী পরিবারকে (Gandhi Family) অনেক দিন পর এক সুরে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে রাজনীতির অঙ্গনের বাইরের একটি বিষয়। দিল্লিতে পথ কুকুর মুক্ত করতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ের বিরুদ্ধে দিনের দিন মুখ খুলেছিলেন রাহুল এবং ইন্দিরার ছোট ছেলে প্রয়াত সঞ্জয়ের স্ত্রী মেনকা। পরে সরব হয়েছেন মানেকা পুত্র তথা বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ বরুণ এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। চারজনই শীর্ষ আদালতকে রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়েছেন।
বিজেপির নেত্রী মানেকাকে (Maneka Gandhi) রাজনীতির ঊর্ধ্বে বহু মানুষ শ্রদ্ধা করেন তাঁর পশু প্রেমের জন্য। গোটা বিশ্বে পশুপ্রেমীদের কাছে পরিচিত গান্ধী পরিবারের এই বধূ। কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকার সময় নিজের পোষা কুকুর-বিড়ালদের সঙ্গে নিয়ে অফিস করতেন।
চলতি সপ্তাহের গোড়ায় দিল্লি সহ লাগোয়া বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পথকুকুর মুক্ত করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সারা দেশের পশুপ্রেমীরা।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, দিল্লি ও রাজধানী সংলগ্ন এলাকা থেকে সমস্ত পথকুকুর সরিয়ে ফেলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেশের মানবতা ও বিজ্ঞাননির্ভর প্রাচীন নীতি থেকে কয়েক দশক পিছনে হাঁটার মতো বিষয়। এই অবলা প্রাণীগুলি কোনও সমস্যা নয়, যাদের একেবারে সরিয়ে ফেলতে হবে।
রাহুল আরও বলেন, খোঁয়াড় তৈরি, নির্বীজকরণ, ভ্যাকসিন দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষাই পথঘাটকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। আর সেটাও কোনও নৃশংসতা ছাড়াই হতে পারে। কিন্তু, একেবারে পথকুকুরকে সরিয়ে ফেলার পদক্ষেপ হিংস্র, অদূরদর্শী এবং করুণার অভাবকেই তুলে ধরে। আমরা জননিরাপত্তা ও প্রাণিকল্যাণের বিষয়টিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে পারি, এক্সবার্তায় লেখেন কংগ্রেসের লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
অন্যদিকে, মানেকা শীর্ষ কোর্টের রায় নিয়ে বলেন, কুকুরের উপর প্রবল রাগ আছে, এমন কেউই একথা বলতে পারেন। ফলে রাগ থেকে আসা সিদ্ধান্তের কোনও অনুভব থাকে না। তিনি আরও জানান, দিল্লিতে সরকার পরিচালিত কোনও কুকুরের খোঁয়াড় নেই।
এক সুরে প্রিয়ঙ্কা বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শহরের সমস্ত বেওয়ারিশ কুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করার ফলে তাদের প্রতি ভয়াবহ অমানবিক আচরণ করা হবে। তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রও নেই।
প্রিয়ঙ্কা আরও বলেছেন, 'কুকুর হলো সবচেয়ে সুন্দর প্রাণী যারা এই ধরণের নিষ্ঠুরতা প্রাপ্য নয়।' তিনি আরও বলেন, শহরাঞ্চলের প্রাণীরা ইতিমধ্যেই দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই আরও ভালো উপায় আছে এবং একটি মানবিক উপায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে যেখানে এই নিরীহ প্রাণীদের যত্ন নেওয়া হয় এবং নিরাপদ রাখা হয়।'
তুলনায় বরুণের প্রতিক্রিয়া বেশ কঠোর। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে নিষ্ঠুরতার নজির বলেছেন তিনি। বিজেপি নেতার কথায়, এই রায় নিষ্ঠুরতাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।