কখনও সংসদ ভবন, কখনও বাজারের ভিড়ে, আবার কখনও কোনও সরকারি দফতরের পাশে, হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দেশে।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 12 November 2025 16:17
দেশের রাজধানী দিল্লি- রাজনীতি, প্রশাসন আর মানুষের ভিড়ে প্রতিদিন সরগরম এই শহর। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেই বারবার ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কেঁপে উঠেছে রাজধানী (Capital Delhi)। কখনও সংসদ ভবন, কখনও বাজারের ভিড়ে, আবার কখনও কোনও সরকারি দফতরের পাশে, হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দেশে। গত দুই দশকে একাধিকবার রক্ত ঝরেছে এই শহরের রাস্তায়, প্রশ্ন উঠেছে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Delhi Security) নিয়েও।
২০০১ সালে সংসদ ভবনের সামনে হামলার (Delhi Blast 2001) পর থেকেই শুরু হয় রাজধানীতে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) দীর্ঘ অধ্যায়। ১৩ ডিসেম্বর পাঁচজন বন্দুকধারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংসদের স্টিকার লাগানো গাড়িতে চড়ে সংসদ ভবনে (Indian Parliament) ঢুকে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। জঙ্গিদের গুলিতে একজন সাধারণ নাগরিক, পাঁচ পুলিশকর্মী-সহ ১২ জনের মৃত্যু হয়।
ভারত সরকার (Government of India) প্রাথমিকভাবে লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে। যদিও লস্কর এই ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করে। ২০০২ সালের শেষের দিকে চারজনকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু হয়, জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
২০০৫ সালে ২৯ অক্টোবর দিল্লির (Delhi Blast 2005) সরোজিনি নগর (Delhi Sarojini Nagar), পাহাড়গঞ্জ এবং গোবিন্দপুরীর মতো বেশ কিছু জায়গায় একসঙ্গে একাধিক বোমা হামলা হয়। সেই ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ৬০ জন, আহতের সংখ্যা ছিল ২০০-র বেশি। ওই হামলার পেছনে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তইবার নাম উঠে আসে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলেন। এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে পরে তাদের মুক্তি দেয় আদালত।
এরপর ২০০৮ সালে আবারও বিস্ফোরণ! ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির (Delhi Blast 2008) কার্নট প্লেস, গফর মার্কেট, করোলবাগ- শহরের একাধিক ব্যস্ত এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বছরই দিল্লির হাইকোর্টের সামনে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় বহু মানুষের। একের পর এক ঘটনায় নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। তারপর থেকেই দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল ও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ নজরদারি আরও কড়াকড়ি করে।
তবুও আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। চলতি বছরের (Delhi Blast 2025) ১০ নভেম্বর সন্ধ্যে ৬.৫২ নাগাদ হঠাৎই জোরাল শব্দে বিস্ফোরণ হয় লালকেল্লা চত্বরে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কিছু সন্দেহভাজন জঙ্গির গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল, সেই সময় ভুলবশত সেগুলি ফেটে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর রাসায়নিক ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ।
এনআইএ (NIA) ও দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি কোনও বড় নাশকতা পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা হয়তো সময়মতো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। তবুও বারবার ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ দেখিয়ে দিচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধচক্র এখনও রাজধানীর বুকে সক্রিয়।
আজও অতীতের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি ভুলতে পারেনি দিল্লি। প্রতিটি বিস্ফোরণ শুধু প্রাণহানি নয়, মানুষের মনে গভীর অনিশ্চয়তার ছাপ রেখে গিয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোই এখন রাজধানীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।