একটি মৃত্যুর আঁধার কাটার আগেই ফের এক পুলিশ কর্মী সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি করে আত্মহত্যা করলেন।

এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরকে (একেবারে বাঁদিকে) রোহতকের লাধোত গ্রামের একটি খেতের কাছে ঘরের মধ্যে পাওয়া যায়।
শেষ আপডেট: 14 October 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার আইপিএস অফিসার এডিজিপি ওয়াই পূর্ণ কুমারের রহস্যজনক আত্মহত্যার রহস্যে নয়া মোড়। একটি মৃত্যুর আঁধার কাটার আগেই ফের এক পুলিশ কর্মী সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি করে আত্মহত্যা করলেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রোহতকে। সবথেকে বড় রহস্য পুলিশের এই এএসআই রোহতকের সাইবার সেলের কর্মী, আইপিএস পূর্ণ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তকাজে যুক্ত ছিলেন। এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরকে রোহতকের লাধোত গ্রামের একটি খেতের কাছে ঘরের মধ্যে পাওয়া যায়।
তাঁর দেহের কাছেই একটি তিন পাতার সুইসাইড নোট মিলেছে এবং সুইসাইডের আগে একটি ভিডিও করেন তিনি। পুলিশ কর্মীর সুইসাইড নোট ও ভিডিও থেকে এই কদিন ধরে যে পূর্ণ কুমারের মৃত্যু নিয়ে হালচাল চলছিল, তা সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। বিশেষত এদিনই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মৃত আইপিএস অফিসার পূর্ণ কুমারের চণ্ডীগড়ের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা করেন।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একহাত নেন। বলেন, জাতভিত্তিক আমলাতন্ত্র ও পুলিশি ব্যবস্থায় এই সরকার ভরে গিয়েছে। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। রাহুলের কথায়, এদেশে দলিতরা দেখতে পাচ্ছেন, তিনি যতই যোগ্য ও সফল হোন না কেন, তাঁকে উঠতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনা কেবলমাত্র একজন আইপিএস অফিসারের পরিবারের অপমান নয়, দেশের সমস্ত দলিতের প্রতি অপমান।
যদিও এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরের বয়ান অনুযায়ী প্রয়াত পূর্ণ কুমার একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ও জাতভিত্তিক বৈষম্যমূলক অফিসার ছিলেন। তিন পাতার সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, পূর্ণ কুমার ঘুষ নিতেন। যে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষগ্রহণের অভিযোগে তদন্ত চলছিল। এখন পরস্পর বিরোধী দুটি আত্মহত্যার বয়ানে হরিয়ানার পুলিশ কাঠামো নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
রোহতকে পুলিশ সুপার জানান, সন্দীপ একজন পরিশ্রমী এএসআই ছিলেন। খুবই সৎ এবং কঠিন পরিশ্রমী। তবে পুলিশ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে বলে জেলার শীর্ষ কর্তা জানান। সন্দীব রোহতক তোলাবাজি-ঘুষ কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার হিসেবে সাইবার সেলে কাজ করতেন। ভিডিওতে তিনি বলে গিয়েছেন, পূর্ণ কুমার ছিলেন প্রচণ্ড দুর্নীতিগ্রস্ত। উনি বেছে বেছে দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারদের নিয়োগ করতেন। শুধু তাই নয়, জাত দেখে বদলি করতেন। দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই উনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি মৃত এএসআইয়ের।
তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলেন, আমি সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করছি। আমি সৎ ছিলাম, যা নিয়ে আমি গর্বিত বোধ করি। আমার মৃত্যু দেশের মানুষকে সচেতন করবে। আমার পরিবারের লোকরা এদেশে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন।