দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বহু যাত্রী কৃতজ্ঞতা জানায় পুরো ক্রুকে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দীপিকার মা বলেন, “ও যখন বলল, মা, ফিরব কি না জানি না, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম।

ফরিদাবাদের পাইলট দীপিকা অধানা
শেষ আপডেট: 11 March 2026 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ায় (Middle East tension) আটকে থাকা ভারতীয়দের ফেরাতে বন্দোবস্ত করেছে কেন্দ্র। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশেষ বিমান সেখানের আকাশে উড়ছে। প্রাণসংশয় রয়েছে পাইলটদেরও। তবুও তোয়াক্কা না করেই উদ্ধারকাজে (UAE Rescue Mission) নেমে পড়েছেন তাঁরা। এমনই একজন ফরিদাবাদের দীপিকা অধানা (Deepika Adhana)। আমিরশাহি থেকে ১৬৯ ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনলেন দিল্লি। উড়ানের আগে মাকে ফোনে বলেছিলেন, 'ফিরব কি না জানি না।' মেয়ের কথা শুনে দীর্ঘ কয়েকঘণ্টা আতঙ্কে কাটায় পরিবার।
আরবদুনিয়ার সংঘাত (Middle East Tension) ১২ দিনেও অব্যাহত। ইজরায়েল (Israel), আমেরিকার (America) ইরানে (Iran) হামলা, গালফের দেশগুলিতে পাল্টা প্রত্যাঘাত করছে তেহরান।
গত ৬ মার্চ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের (Air India Express) ২৩ বছরের পাইলট দীপিকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খেইমায় উদ্ধার মিশনে যাওয়ার নির্দেশ পান। বিমানটি তাঁর এক সহকর্মীর চালানোর কথা ছিল, কিন্তু উড়ানের দু'ঘণ্টা আগে নির্দেশ বদলে যায়, দীপিকাকেই যেতে হবে।
বিমানের প্রত্যেক সদস্যই ছিলেন মহিলা। ক্যাপ্টেন জসবিন্দর কৌর, কো পাইলট দীপিকা অধানা এবং আরও চারজন মহিলা ক্রু। দীপিকা বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির (war-like situation) জন্য কিছুটা ভয় তো ছিলই, তবে কর্তৃপক্ষ তাঁদের সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেয়। তাই তাঁরা যেভাবে সাধারণ দিনে উড়ান পরিচালনা করেন, সেভাবেই মিশনে এগিয়ে যান।
দুপুর ২টোর দিকে ফ্লাইটটি রাস আল খেইমা বিমানবন্দরে (Ras Al Khaimah airport) নামে। দীপিকার কথায়, বিমানবন্দরে ভিড় কম ছিল, তবে আতঙ্কের কোনও পরিবেশ ছিল না। এক ঘণ্টা পরে ১৬৯ ভারতীয় যাত্রীকে তুলে দুপুর ৩টে ৩০ মিনিটে বিমান দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়।
উড়ানের সময় এক টানটান মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, কিছুক্ষণ জন্য এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC)সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যায়।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বহু যাত্রী কৃতজ্ঞতা জানায় পুরো ক্রুকে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দীপিকার মা বলেন, “ও যখন বলল, মা, ফিরব কি না জানি না, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। আর যখন শুনলাম ও সবাইকে নিয়ে নিরাপদে ফিরেছে, আমি খুব খুশি।”
ফরিদাবাদের মেয়ে দীপিকা। বাবা যোগেশ অধানা একজন ব্যবসায়ী, মা বাবলি অধানা গৃহিনী, বড় ভাই মুম্বইয়ে একটি ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। তরুণী জানান, দীপিকা জানান, তাঁর পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রয়াত দাদা অমৃত সিং অধানা। পরিবারের সমর্থনেই তিনি এগিয়ে যান।
২০২০ সালে বল্লভগড়ের স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেন। দিল্লিতে সিপিএল (Commercial Pilot Licence) এর প্রস্তুতি শুরু করেন, তবে করোনার কারণে এক বছর বাড়ি থেকে পড়তে হয়। ২০২১ সালে সিপিএল পান।
২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায় ফ্যালকন অ্যাভিয়েশন একাডেমিতে ২০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ উড়ান সম্পন্ন করেন। ২০২৩ সালে গ্রিস ও ইস্তানবুলে গিয়ে এয়ারবাস A320–এর টাইপ রেটিং ট্রেনিং নেন। টাইপ রেটিংয়ের পরে ২০২৩ সালে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হন। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে পাইলট হিসেবে যোগ দেন।