‘কোর এরিয়া’ লাগোয়া গ্রাম সরিয়ে পুনর্বাসনের যে কথা বলা হচ্ছে, তার বাস্তবায়ন এখনও অসম্পূর্ণ। সেই কাজ শেষ না হলে সংঘাত কমবে কীভাবে? বাঘ সংরক্ষণ আর মানুষের নিরাপত্তা, এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 7 February 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘ সংরক্ষণে সাফল্যের আড়ালেই কি চাপা পড়ে যাচ্ছে মানুষের প্রাণহানির বাস্তব ছবি?
ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির (National Tiger Conservation Authority) সদ্য প্রকাশিত পুস্তিকায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য, গত পাঁচ বছরে দেশে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৮২ জন। অথচ এই বাঘে-মানুষে সংঘাত কমাতে যে খাতে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, সেই বাজেটই কমানোর ইঙ্গিত মিলেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এই মৃত্যুগুলির গুরুত্ব কমছে কেন্দ্রের চোখে?
এনটিসিএ-র রিপোর্ট বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৪, এই পাঁচ বছরে বাঘের হামলায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। সংখ্যাটা চমকে দেওয়ার মতো ২১৮ জন। দ্বিতীয় স্থানে উত্তরপ্রদেশ, সেখানে প্রাণ গিয়েছে ৬১ জনের। আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, এই দুই রাজ্যেই বাঘের ‘কোর এরিয়া’র আশপাশে বহু গ্রাম রয়েছে। জঙ্গলঘেঁষা বসতিতে মাঝেমধ্যেই ঢুকে পড়ছে বাঘ। খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়াই সংঘাতের মূল কারণ।
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলা এই সংঘাতের অন্যতম হটস্পট। বহু গ্রাম একেবারে জঙ্গলের প্রান্তে। ফলে মানুষ ও বাঘের মুখোমুখি হওয়া প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। অন্য দিকে, সংখ্যার বিচারে পশ্চিমবঙ্গে বাঘের হানায় মৃত্যু তুলনামূলক কম। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বাংলায় প্রাণ গিয়েছে ১২ জনের। তবু সুন্দরবনের মতো এলাকায় আতঙ্ক যে পুরোপুরি কাটেনি, তা মানছেন বিশেষজ্ঞরাও।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় বাজেট। সূত্রের খবর, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাঘে-মানুষে সংঘাত কমানোর খাতে বরাদ্দ ছিল ৮ কোটি টাকা। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ সালের জন্য সেই বরাদ্দ কমিয়ে অর্ধেক—মাত্র ৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অথচ কেন্দ্র নিজেই স্বীকার করছে, সংঘাত পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
কেন্দ্রের যুক্তি, যেখানে বাঘের হামলায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি, শুধু সেখানেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এনটিসিএ-র একাংশ আধিকারিকের দাবি, গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে,অনেক রাজ্যেই মৃত্যুর হার নিম্নমুখী। আগের বছরগুলিতে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির ফলেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাই নতুন করে বড় বরাদ্দের প্রয়োজন নেই বলেই মত তাঁদের।
তবে বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। মানুষের প্রাণহানি যখন এখনও থামেনি, তখন বাজেট ছাঁটাই কি ঠিক সিদ্ধান্ত? ‘কোর এরিয়া’ লাগোয়া গ্রাম সরিয়ে পুনর্বাসনের যে কথা বলা হচ্ছে, তার বাস্তবায়ন এখনও অসম্পূর্ণ। সেই কাজ শেষ না হলে সংঘাত কমবে কীভাবে? বাঘ সংরক্ষণ আর মানুষের নিরাপত্তা, এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বরাদ্দ কমানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই বাড়ছে বিতর্ক।