Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখার প্রথম দিওয়ালি পরীক্ষা, বায়ু দূষণের কাঁটা বাড়াচ্ছে রাজধানীর রাজনীতি

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আম আদমি পার্টির (AAP) শাসনে যে শহর ধোঁয়া ও ধুলোর জালে জর্জরিত ছিল, সেখানে এ বছর প্রথমবার বিজেপি সরকারের (BJP) দিওয়ালি।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখার প্রথম দিওয়ালি পরীক্ষা, বায়ু দূষণের কাঁটা বাড়াচ্ছে রাজধানীর রাজনীতি

রেখা গুপ্তা ও কেজরিওয়াল

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 16 October 2025 21:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আম আদমি পার্টির (AAP) শাসনে যে শহর ধোঁয়া ও ধুলোর জালে জর্জরিত ছিল, সেখানে এ বছর প্রথমবার বিজেপি সরকারের (BJP) দিওয়ালি। আর এই উৎসবই হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার (Rekha Gupta) প্রথম “দূষণ পরীক্ষা” (Delhi Polution)।

দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি বলে এসেছে দিওয়ালিকে অন্যায়ভাবে দূষণের একমাত্র খলনায়ক বানানো হচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই সেই তর্ক এবার বাস্তবের ময়দানে। গত পাঁচ বছর ধরে রাজধানীতে সম্পূর্ণ আতসবাজি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এ বার সুপ্রিম কোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে। বলেছে ‘সবুজ’ আতসবাজি ফাটানো যাবে দিওয়ালির আগের দিন এবং দিওয়ালির দিন, মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য।

কিন্তু আদালতের এই রায় ঘোষণার দিনই শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছাড়িয়ে যায় ৩০০। মানে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। রেখা গুপ্তা অবশ্য রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। বলেছেন, “দিল্লির মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের সরকার পরিচ্ছন্ন ও সবুজ দিল্লির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে।”

২৭ বছর পর দিল্লিতে ক্ষমতায় ফিরে ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি ঘোষণা করেছিল, দ্রুতই রাজধানীর বায়ু দূষণ কমানো হবে, পরিষ্কার হবে যমুনা। কিন্তু দিওয়ালির ঠিক আগে আতসবাজির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় সেই প্রতিশ্রুতি এখন প্রশ্নের মুখে।

অগস্টে সরকার জানিয়েছিল, গত আট বছরে এ বছরই দিল্লির গড় একিউআই (১৭২) সর্বনিম্ন, ‘ভাল’ একিউআই-দিন বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমাদের উদ্যোগ কাজ করছে।” কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা এখন দিওয়ালির সময়টা। প্রতিবছর এই মরসুমেই বাতাসের গুণগত মান লাফিয়ে ওঠে তিন থেকে চার গুণ, শহর ঢেকে যায় ধোঁয়ায়।

পরিবেশ বিশ্লেষকদের কথায়, “এই বছর দীর্ঘ বর্ষা, দূষণ কিছুটা রুখেছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা হবে শীতকালে। যখন দূষণ নীচে নামবে না, বরং জমে থাকবে।”

গত আট মাসে রেখা গুপ্তা ও পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন—

  • মেঘ বপনের (cloud seeding) ট্রায়াল
  • নতুন ইলেকট্রিক বাস ও অটোরিকশা
  • অতিরিক্ত স্মগ গান ও ডাস্ট কন্ট্রোল ইউনিট, ইত্যাদি


তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি এখনও ধোঁয়াশার দিওয়ালির মুখোমুখি। এক পরিবেশকর্মীর কথায়, “সবুজ আতসবাজি দূষণমুক্ত নয়। মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম ধূলিকণা ছাড়ে, সেটাও পরীক্ষাগারে। এগুলো আসলে দূষণকে ন্যায্যতা দেওয়ার অজুহাত।”

বছরের বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে। নতুন ছ’টি এয়ার কোয়ালিটি মনিটর বসানো হচ্ছে, আসছে আরও ৫,০০০ ইলেকট্রিক বাস। কিন্তু এই পদক্ষেপগুলির অনেকটাই আম আদমি পার্টি সরকারের পুরনো পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি। রাস্তা পরিষ্কার, নির্মাণক্ষেত্র নজরদারি, ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার— সবই আগের রেসিপি, নতুন মোড়কে।

বিজেপি সরকারের বড় উদ্যোগ ‘ক্লাউড সিডিং’ কৃত্রিম বৃষ্টি এনে দূষণ কমানো। তবে সেই পরীক্ষা এখনও ময়দানের চেয়ে যোজন দূরে। পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, “দিওয়ালির পরেই প্রথম ট্রায়াল হতে পারে, আবহাওয়া দফতরের অনুমতির অপেক্ষায়।”

আরও এক বিতর্কিত পদক্ষেপ পুরনো গাড়ি বা End-of-Life Vehicles নিয়ে। জুনে ঘোষণা হয়েছিল, ১৫ বছরের পুরনো পেট্রল ও ১০ বছরের পুরনো ডিজেল গাড়ি দিল্লিতে তেল পাবে না। কিন্তু জনরোষে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। ফলে এখন তারা জ্বালানি পায়, কিন্তু শহরের ভিতরে চালানো যায় না। মানে এক প্রকার ধোঁয়াটে অবস্থা।

জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক আরও এক ছাড় দেয়। কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে সালফার ডাই-অক্সাইড কমানোর যন্ত্র (FGD) বসানোর বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি। দেশের ৫৩৭টি প্ল্যান্টের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশে এই ব্যবস্থা বসবে।

দিওয়ালির আগেই শহরের বহু জায়গায় AQI ‘poor’ থেকে ‘severe’। শীত পড়লে, কুয়াশা ও নিম্ন তাপমাত্রায় দূষণ আরও ঘনীভূত হবে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের তিন ঘণ্টার ‘সবুজ আতসবাজি’-র নিয়ম বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ।


```