পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা যে দেশের স্বাস্থ্যের পক্ষে লাভজনক হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 June 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন নিয়মে বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছেন গাড়িচালকরা। হাতে সময় মাত্র কয়েক মাস। আগামী ১ নভেম্বর থেকে বেছে নেওয়া বহু গাড়ি আর পাবে না পেট্রল বা ডিজেল। অর্থাৎ রাস্তায় নামলেও পেট্রল পাম্পে গিয়ে জ্বালানি না-ও মিলতে পারে। এমনই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়ডার রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিস (RTO)। পরিবেশ রক্ষা ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর।
কারা পড়বেন এই নিয়মের আওতায়?
নিয়মটি মূলত প্রযোজ্য হবে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের সমস্ত ১৫ বছরের বেশি পুরনো পেট্রল গাড়ি এবং ১০ বছরের বেশি পুরনো ডিজেল গাড়ির ক্ষেত্রে। গাড়ির বয়সসীমা পেরিয়ে গেলে তাকে আর ‘অন রোড’ রাখা যাবে না। তার রেজিস্ট্রেশন আর নবীকরণ হবে না এবং সেই গাড়িগুলিকে এবার আর কোনও পেট্রল পাম্প থেকে পেট্রল বা ডিজেলও দেওয়া হবে না।
কীভাবে চলবে এই নিয়ম?
জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। নয়ডা ও গাজিয়াবাদের প্রতিটি পেট্রল পাম্পে বসানো হবে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রেকগনিশন (ANPR) ক্যামেরা। গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করেই মুহূর্তে জানা যাবে তার বয়স। বয়সসীমা পার করলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি বন্ধ, এমনই হবে নতুন নিয়মে।
কত গাড়ি এই নিয়মে আটকে পড়বে?
গৌতম বুদ্ধ নগরের পরিবহণ দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র এনসিআর অঞ্চলেই প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি গাড়ি রয়েছে, যেগুলির বয়সসীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। তাও চলছে। এই সমস্ত গাড়ির মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে নোটিস। তাদের হয় সেই গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে নাহয় সোজা গাড়ি নিয়ে সারেন্ডার করতে বলা হয়েছে।
যদি কেউ এই নিয়ম অমান্য করেন, তবে তাঁকে বড়সড় জরিমানা গুনতে হতে পারে। এমনকি গাড়ি বাজেয়াপ্তও করা হতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট।
তাই এখনই কী করবেন?
আপনার গাড়ির বয়স যদি ১৫ বছরের বেশি (পেট্রল) বা ১০ বছরের বেশি (ডিজেল) হয়ে থাকে, তাহলে এখনই RTO-র সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি রাখুন এবং ভাবুন কীভাবে গাড়িটি রাস্তায় রাখা যেতে পারে আইন মেনে। নয়তো বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে আগেভাগেই।
পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা যে দেশের স্বাস্থ্যের পক্ষে লাভজনক হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।