প্রতিবছর ভারতীয় সেনায় বিপুল সংখ্যক জওয়ান এবং অফিসার নিয়োগ করা হয়। দেশ সেবায় নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়ে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সেনাবাহিনী
শেষ আপডেট: 17 December 2025 09:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান ভারতের বিপুল পদাতিক সেনা বা আর্মি কন্টিনজেন্টের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মহারাষ্ট্রের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (Maharashtra Ex CM) বক্তব্য পদাতিক সেনাকে ভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহার করা হোক।
তাঁর বক্তব্য অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ভবিষ্যৎ যুদ্ধ হবে আকাশে এবং বিমান ও ড্রোন তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পদাতিক সেনার সেখানে খুব বেশি প্রয়োজন পড়বে না।
চৌহান বলেছেন অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) পদাতিক সেনাকে (infantry troops) এক কিলোমিটারও অগ্রসর হতে হয়নি। অথচ দেশের প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ পদাতিক সেনা আছে। পাকিস্তানের তুলনায় সংখ্যায় তা প্রায় ১০ লাখ বেশি। প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, এত বিপুল সংখ্যক সেনা দিয়ে আমরা করবটা কী। সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ দেশকে রক্ষা করতে যুদ্ধ করা। অথচ যুদ্ধের চরিত্রই বদলে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান
কংগ্রেসের (Congress) এই নেতা অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বেশ কিছু অস্বস্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটা অস্বীকার করে লাভ নেই যে পাকিস্তান ভারতের বিমানকে ভূপাতিত করেছে। সেই কারণে একাধিক বিমানঘাঁটি থেকে ভারতের যুদ্ধবিমান তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলায় যায়নি।
প্রতিবছর ভারতীয় সেনায় বিপুল সংখ্যক জওয়ান এবং অফিসার নিয়োগ করা হয়। দেশ সেবায় নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়ে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে সেনাবাহিনী। এ জন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রচার চালান। অপারেশন সিঁদুরের পর এই অভিযান আরো বেড়েছে।
মূল সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অগ্নিবির নিয়োগেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে ভারত সরকার। সেনার তিন বাহিনীতেই অগ্নিবীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। অপারেশন সিঁদুরে তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পর্যালোচনা করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে সরকারের কাছে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতার ভিন্ন বক্তব্য সংবাদ মাধ্যম ও সমাজ মাধ্যমে যথেষ্ট আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ জনবলের অভাবে সময়ের শেষ করা যাচ্ছে না। সেই সব কাজে সেনাবাহিনীর একাংশকে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এখন শুধুমাত্র বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আইনশৃঙ্খরাজনিত গুরুতর সমস্যা হলে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হয়ে থাকে। মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতার বক্তব্য পদাতিক সেনাকে ভিন্ন কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি বায়ুসেনার দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে।
যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে ভিন্নমত আছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান ও কর্তাদের। তাঁদের একাংশের মত হল পদাতিক সেনার গুরুত্ব কখনই লঘু করার সুযোগ নেই। তারা একেবারে হলের দৃষ্টান্ত হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বলছেন সেখানে দু'দেশের পদাতিক সেনাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিমান হামলায় কোন এলাকা কব্জা করার পর সেখানে পদাতিক সেনা গিয়েই দখলদারি নিশ্চিত করে। তাছাড়া শত্রু শিবিরকে চিহ্নিত করা এবং হামলার কৌশল রচনায় পদাতিক সেনার গুরুত্ব অপরিসীম। ভিন্ন কাজে দীর্ঘ সময় তাদের ব্যবহার করা হলে যুদ্ধের মানসিকতা লঘু হয়ে যেতে পারে।