পুলিশ জানায়, ঘরে প্রবেশ করার পর তাঁকে ছুরি হাতে পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালাতে বাধ্য হন অফিসাররা।

মহম্মদ নিজামউদ্দিন
শেষ আপডেট: 19 September 2025 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় (California) পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন তেলঙ্গানার মহবুবনগর জেলার এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (Telengana Software Engineer)। নিহত যুবকের নাম মহম্মদ নিজামউদ্দিন (২৯)। তাঁর পরিবার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর সান্তা ক্লারা পুলিশ তাঁকে গুলি করে।
নিহতের বাবা মহম্মদ হাসনউদ্দিন জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যু সংবাদ তিনি প্রথমে জানতে পারেন ছেলের এক বন্ধুর কাছ থেকে। পরিবারের দাবি, নিজামউদ্দিনের সঙ্গে রুমমেটের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরেই এই বিপর্যয় ঘটে। তবে আসল ঘটনা এখনও পরিষ্কার নয়। জাতিগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাঁদের ছেলেকে, এমন ধারণাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবিদ্বেষ, বেতন প্রতারণা ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর ঘটনাটি ঘিরে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী গুলি চলার আগে পুলিশকে ফোন করেছিলেন তাঁর ছেলে নিজেই। ফলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তাঁর পরিবার জানিয়েছে, নিজামউদ্দিন এর আগেই প্রকাশ্যে বর্ণবিদ্বেষ, হয়রানি ও চাকরি থেকে বেআইনি বরখাস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর লিংকডইন পোস্টে লেখা ছিল: “আমি বর্ণবিদ্বেষ, বর্ণবিদ্বেষী হয়রানি, অত্যাচার, বেতন প্রতারণা, বেআইনি বরখাস্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধার শিকার হয়েছি। যথেষ্ট হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী মানসিকতা শেষ হতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছিল, খাবারে বিষ মেশানো হয়েছিল এবং জোর করে বাসা ছাড়তেও বাধ্য করা হয়েছিল।
নিজামউদ্দিন আমেরিকায় ফ্লোরিডার একটি কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করেছিলেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের বক্তব্য, তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও ধর্মপ্রাণ মানুষ।
পরিবারের আবেদন
নিজামউদ্দিনের দেহ বর্তমানে সান্তা ক্লারার একটি হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর বাবা বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের কাছে একটি চিঠি লিখে ছেলের দেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর আবেদন জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “কেন পুলিশ আমার ছেলেকে গুলি করল, তা আমি জানি না। আমি শুধু চাই, ওর দেহ মহবুবনগরে আনা হোক।”
মজলিস বচাও তেহরিক (MBT)-এর মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খান পরিবারের আবেদন সংবাদমাধ্যমে শেয়ার করে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সান্তা ক্লারা পুলিশের দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা ১৮ মিনিটে ইমার্জেন্সি কলে তারা আইজেনহাওয়ার ড্রাইভ এলাকায় পৌঁছয়। দেখা যায়, নিজামউদ্দিন তাঁর রুমমেটকে ছুরি মেরেছেন এবং আরও একবার আক্রমণের হুমকি দিচ্ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘরে প্রবেশ করার পর তাঁকে ছুরি হাতে পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালাতে বাধ্য হন অফিসাররা। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আহত রুমমেটকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁর চিকিৎসা চলছে।
সান্তা ক্লারা পুলিশ চিফ কোরি মর্গান বলেন, “আমাদের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অফিসারের পদক্ষেপ আরও প্রাণহানি রোধ করেছে এবং অন্তত একটি জীবন বাঁচিয়েছে।” ঘটনাস্থল থেকে দুটি ছুরি উদ্ধার হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।