বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর এই উত্থানকে আরজেডি নেতৃত্বের প্রজন্ম পরিবর্তনের সূচনা বলেই দেখছেন রাজনৈতিক মহল।

ছেলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন লালু
শেষ আপডেট: 25 January 2026 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-র সংগঠনে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের জাতীয় ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট (Working President) পদে বসানো হল তেজস্বী যাদবকে (Tejaswi Yadav)। বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর এই উত্থানকে আরজেডি নেতৃত্বের প্রজন্ম পরিবর্তনের সূচনা বলেই দেখছেন রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিল লালুপ্রসাদের (Lalu Prasad Yadav) দল।
রোববার আরজেডি-র জাতীয় কার্যনির্বাহী বৈঠকের প্রথম দিনের অধিবেশনেই তেজস্বীর নাম ঘোষণা করা হয়। দলনেতা লালুপ্রসাদ যাদব নিজে হাতে ছেলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী-সহ (Rabri Devi) দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এত দিন আরজেডি-তে জাতীয় ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট নামে কোনও পদই ছিল না। নতুন এই পদ তৈরি করে তেজস্বী যাদবকে বসানোয় দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে দলের দৈনন্দিন পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তেজস্বীর ভূমিকা আরও শক্তপোক্ত হবে।
মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তেজস্বী যাদব ইতিমধ্যেই বিহারের রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবেও তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ফলে আরজেডি-র (RJD News) ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে তিনিই মুখ্য চালিকাশক্তি হবেন বলেই মনে করছে দল।
তবে এই নেতৃত্ব বদলের সময়েই যাদব পরিবারে অস্বস্তির সুরও শোনা যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে লালু যাদবের পরিবারের অন্দরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। তেজস্বীর দাদা, প্রাক্তন মন্ত্রী তেজপ্রতাপ যাদব (Tej Pratap Yadav) এবং দিদি রোহিণী আচার্য (Rohini Acharya) একাধিক বার দল ও পরিবারের ‘অস্থিরতা’ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষ করে রোহিণী আচার্য সম্প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি-র হতাশাজনক ফলের দায় তেজস্বীর নেতৃত্বের উপর চাপিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা।
এই পারিবারিক টানাপড়েনের আবহেই তেজস্বীকে জাতীয় ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট করা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, লালু যাদব একপ্রকার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন, দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আর কোনও দ্বিধা নেই। আরজেডি-র ‘নতুন যুগ’-এর মুখ হিসেবে তেজস্বীকেই সামনে রেখে আগামী লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করল দল।