বৈঠকে তেজস্বী এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। বলেন। আরজেডি-র খারাপ ফলের জন্য তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদবকে দোষারোপ করা সম্পূর্ণ ভুল।

তেজস্বী ও লালুপ্রসাদ
শেষ আপডেট: 18 November 2025 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনে (Bihar Election Result) আরজেডি-র (RJD) ভরাডুবির দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নাকি দলনেতার পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)। সূত্রের খবর, দলের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, এখন তিনি সাধারণ বিধায়ক হিসেবেই কাজ করতে চান, বিরোধী দলনেতার পদে আর থাকতে চান না। তাঁর কথায়, “আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারলাম না। ফলাফলের দায় আমিই নিচ্ছি।”
কিন্তু তেজস্বীর এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি নন লালুপ্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav) নিজে। দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্ষীয়ান নেতা লালু পরিষ্কার জানিয়েছেন— তেজস্বীকেই দলের মুখ হয়ে বিধানসভায় নেতৃত্ব দিতে হবে। সিনিয়র নেতাদেরও একই মত— দলকে সক্রিয় ও সঙ্ঘবদ্ধ রাখতে নেতৃত্বের আসন ছাড়া চলবে না।
পরিবারের অন্দরে নতুন বিতর্ক: সঞ্জয় যাদবকে রক্ষা করলেন তেজস্বী
বৈঠকে তেজস্বী এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। বলেন, আরজেডি-র খারাপ ফলের জন্য তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদবকে দোষারোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি জানান, সঞ্জয় যাদব নির্বাচনী কৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তবে এই নামটাই এখন পরিবারের বিবাদের কেন্দ্রে। তেজস্বীর দিদি রোহিণী আচার্য আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন, সঞ্জয় যাদব নাকি তাঁকে পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। ভোটের ফলের পরে রোহিণীর ক্ষোভ আরও বাড়ে। টুইটে লেখেন, “সঞ্জয় যাদব আর রমিজ আমাকে এটাই করতে বলেছিলেন... এখন আমাকেই সব দোষ নিতে হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তেজস্বী ও তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী দায় এড়াতে চাইছেন।
এ প্রসঙ্গে লালুপ্রসাদ যাদবের মন্তব্য, “এটা পুরোপুরি পারিবারিক ব্যাপার। পরিবারেই মিটিয়ে নেব। আমি আছি।”
২০২০-র নির্বাচনে সর্ববৃহৎ দল হয়েও এ বার মাত্র ২৫ আসনে থামতে হয়েছে আরজেডি-কে। যা আগের বারের থেকে ৫০ কম।
এদিকে, বিজেপি এক লাফে ৭৪ থেকে ৮৯— অন্যদিকে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ৪৩ থেকে সরাসরি ৮৫-এ। ২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় দুই সঙ্গীর প্রায় ৮৫ শতাংশ স্ট্রাইক রেট এনডিএ-কে দিয়েছে স্বচ্ছ, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
বিরোধী শিবিরে একমাত্র স্বস্তির হাওয়া তেজস্বী যাদবের আসন রাঘোপুরে। মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে লড়াই করা তেজস্বী প্রায় ১৪ হাজার ৫৩২ ভোটে হারিয়েছেন বিজেপির সতীশ কুমারকে।
ভোট শেয়ারে অবশ্য আরজেডি এগিয়ে। বিজেপি, জেডিইউ-র যেখানে ২০.৯০ এবং ১৮.৯২ শতাংশ। সেখানে আরজেডি-র ২২.৭৬ শতাংশ।
ফলাফলকে “অন্যায্য নির্বাচনের” প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন তেজস্বীর সঙ্গী রাহুল গান্ধী।