মহাগঠবন্ধনের প্রধান শক্তি হিসেবে তেজস্বী যাদবের (Tejaswi Yadav) আরজেডি যদিও মাত্র ২৫টি আসনে জিততে পেরেছে, কিন্তু ভোটের অঙ্ক বলছে— এককভাবে সর্বোচ্চ ভোটশেয়ার অর্জন করেছে তারাই।

তেজস্বী যাদব
শেষ আপডেট: 15 November 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা ভোটে (Bihar Election Result 2025) সংখ্যার অঙ্ক রীতিমতো চমকে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলকে। মহাগঠবন্ধনের প্রধান শক্তি হিসেবে তেজস্বী যাদবের (Tejaswi Yadav) আরজেডি যদিও মাত্র ২৫টি আসনে জিততে পেরেছে, কিন্তু ভোটের অঙ্ক বলছে— এককভাবে সর্বোচ্চ ভোটশেয়ার অর্জন করেছে তারাই।
২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে আরজেডি (RJD)। গতবারের ২৩.১১ শতাংশ থেকে অল্পই পিছিয়েছে। সংখ্যার হিসেবে ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৫টি ভোট পেয়েছেন তাদের প্রার্থীরা। অন্যদিকে, বিজেপির ঝুলিতে ১ কোটি ৮১ হাজার ১৪৩ ভোট—অর্থাৎ প্রায় ১৫ লক্ষ ভোট কম। কিন্তু আসনসংখ্যায় আরজেডি-র থেকে অনেকটাই এগিয়ে বিজেপি (৮৯) ।
তাহলে প্রশ্ন— সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েও আরজেডি পিছিয়ে রইল কেন?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ হল ভোটশেয়ার বনাম সিট–কনভার্সন। আরজেডি অনেক কেন্দ্রে বিপুল ভোট পেলেও বিজয়সীমা ছুঁতে পারেনি। কোথাও দ্বিতীয়, কোথাও তৃতীয়। ফলে মোট ভোট বাড়লেও আসন বাড়েনি। আবার এই ভোটগুলো অনেকটাই ‘ওয়েস্টেড ভোট’, যেগুলি পরাজিত প্রার্থীদের ব্যাগেই জমা পড়েছে।
আরজেডি লড়েছে ১৪৩টি আসনে, যেখানে বিজেপি ও জেডিইউ লড়েছে মাত্র ১০১টি করে আসনে। ফলে আরজেডির কাছে ৪২টি বেশি আসনে ভোট সংগ্রহের সুযোগ ছিল, যা সরাসরি তাদের মোট ভোটশেয়ার বাড়িয়েছে, কিন্তু সত্যিকারের লড়াইয়ে জয়ের অঙ্ক বাড়ায়নি।

একদিক থেকে দেখতে গেলে এই ভোটে ট্রাজিক নায়ক হলেন আরজেডি-র তেজস্বী যাদব। বিহারে তাঁর দল এবার সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে (RJD Vote share in Bihar)। গত ভোটের তুলনায় আরজেডি-র ভোট কমেছে মাত্র ০.১২ শতাংশ। ২০২০ সালে বিধানসভা ভোটে আরজেডি পেয়েছিল ২৩.১১ শতাংশ ভোট। তা কমে হয়েছে ২২.৯৯ শতাংশ ভোট।
আবার কংগ্রেসের ভরাডুবি হলেও বিহারে তাদের ভোট যে অনেকটাই কমে গেছে তা নয়। এমনিতে বিহারে কংগ্রেসের বেশি ভোট (Congress Vote share in Bihar) ছিল না। ২০২০ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল ৯.৪৮ শতাংশ ভোট। তা কমে হয়েছে এবার ৮.৭২ শতাংশ। অর্থাৎ তাদের ভোট ০.৭৬ শতাংশ কমেছে। এবং মহাজোটের এই দুই বড় শরিক মিলে ভোট কমেছে ০.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ ১ শতাংশেরও কম।

তাহলে মহাজোটের ভুল হল কোথায়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেদর একাংশের মতে, এটা ঠিক রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। তবে এও ঠিক, বিহারে কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত করার মৌলিক দায়িত্ব স্থানীয় নেতাদের। শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপ ঘোষরা বাংলায় বিজেপির সংগঠন তৈরি করতে না পারলে যেমন নরেন্দ্র মোদীর শত চেষ্টাতেও ভোট সাফল্য আসা মুশকিল, তেমনই বিহারেও।
দ্বিতীয়, মহাজোটের শরিকদের মধ্যে সারা বছর ধরে যৌথ কর্মসূচি তথা সমষ্টিগত চেষ্টার অভাব। ভোটের সময়ে জোট, ভোট পেরোলেই ঘোঁট।
তৃতীয়ত, কংগ্রেস তাদের মুরোদের বেশি সংখ্যক আসনে লড়ার জন্য দরকষাকষি করেছে। ৬০টির বেশি আসনে লড়েছে। ততটা শক্তিও কংগ্রেসের নেই।
চতুর্থত, হায়দরাবাদ থেকে উড়ে এসে বিহারে মুসলিম ভোটে থাবা বসিয়ে বহু আসনে কংগ্রেস ও আরজেডি-র যাত্রা ভঙ্গ করেছে মিম। তা ঠেকাতে পারেননি রাহুল-তেজস্বী। তবে দিনের শেষে গেম চেঞ্জার হয়েছে ১০ হাজার টাকার ডাইরেক্ট ট্রান্সফার। এই ভোটে সেটাই সবচেয়ে বেশি ফারাক গড়ে দিয়েছে।