বিহারে দু’শ পার করার পর এই ছবিটা অতিশয় প্রত্যাশিত। এক কথায় ঐতিহাসিক ফলাফল। বিরোধীদের প্রায় ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এনডিএ (NDA)। আপাত ভাবে এই ছবিটা দেখে এই ধারণাই হতে পারে যে বিহারে বিজেপির ভোট বাক্সে সুনামি আছড়ে পড়েছে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 14 November 2025 21:39
বিহার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার সন্ধেয় বিজেপির সদর দফতরে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi after Bihar win)। ফুল, মালা, গোলাপের পাপড়িতে তাঁকে স্বাগত জানানোর পর সটান মঞ্চে উঠে গলার উত্তরীয় উঁচিয়ে ধরে ঘোরাতে শুরু করেন তিনি। অনেকটা লর্ডসের মাঠে যেভাবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জার্সি ঘুরিয়েছিলেন। বিহারে দু’শ পার করার পর এই ছবিটা অতিশয় প্রত্যাশিত। এক কথায় ঐতিহাসিক ফলাফল। বিরোধীদের প্রায় ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এনডিএ (NDA)।
আপাত ভাবে এই ছবিটা দেখে এই ধারণাই হতে পারে যে বিহারে বিজেপির ভোট বাক্সে সুনামি আছড়ে পড়েছে। বিপুল ভোট বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ব্যাপারটাকে উপস্থাপন করেছেন, তা সেই ধারনা জোরালো হতে পারে। তবে বাস্তব হল, বিহারে এই নির্বাচনে গত ভোটের তুলনায় বিজেপির ভোট (BJP Vote share in Bihar) বেড়েছে মাত্র ০.৬১ শতাংশ (রাত ৯.০৫ পর্যন্ত হিসাব। সূত্র নির্বাচন কমিশনের রেজাল্ট ওয়েবসাইট)। ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে বিহারে বিজেপি পেয়েছিল ১৯.৪৬ শতাংশ ভোট। তা বেড়ে হয়েছে ২০.০৭ শতাংশ ভোট।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, কীভাবে এই সাফল্য পেল এনডিএ?
এক কথায় জবাব দিলে বলা যায়, নীতীশ কুমারের ঘাড়ে চড়ে। বিহারে নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দলের (JDU Vote share in Bihar) ভোট বরং বেড়েছে ৩.৮৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে বিহার বিধানসভা ভোটে জেডিইউ পেয়েছিল ১৫.৩৯ শতাংশ ভোট। তা বেড়ে এবার হয়েছে ১৯.২৭ শতাংশ ভোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশের মতে, ভোটের আগে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে ১০ হাজার টাকা করে পাঠিয়েছে নীতীশ সরকার, তার অভিঘাতেই বিহারে এবার মহিলাদের ভোটদানের হার এক লাফে ১২ শতাংশ বেড়েছে। এরই বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন নীতীশ।
এ ছাড়া গত বিধানসভা ভোটে লোক জনশক্তি পার্টি এনডিএ-তে ছিল না। তাদের ৫ শতাংশ ভোটও জুড়েছে। এবং সেই ফরমি়ডেবল বা মজবুত জোট রসায়নের কারণেই বিহারে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জিতেছে এনডিএ।
মহাগঠবন্ধনের ভোট বা মহাজোটের ভোট
একদিক থেকে দেখতে গেলে এই ভোটে ট্রাজিক নায়ক হলেন আরজেডি-র তেজস্বী যাদব। বিহারে তাঁর দল এবার সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে (RJD Vote share in Bihar)। গত ভোটের তুলনায় আরজেডি-র ভোট কমেছে মাত্র ০.১২ শতাংশ। ২০২০ সালে বিধানসভা ভোটে আরজেডি পেয়েছিল ২৩.১১ শতাংশ ভোট। তা কমে হয়েছে ২২.৯৯ শতাংশ ভোট।
আবার কংগ্রেসের ভরাডুবি হলেও বিহারে তাদের ভোট যে অনেকটাই কমে গেছে তা নয়। এমনিতে বিহারে কংগ্রেসের বেশি ভোট (Congress Vote share in Bihar) ছিল না। ২০২০ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল ৯.৪৮ শতাংশ ভোট। তা কমে হয়েছে এবার ৮.৭২ শতাংশ। অর্থাৎ তাদের ভোট ০.৭৬ শতাংশ কমেছে। এবং মহাজোটের এই দুই বড় শরিক মিলে ভোট কমেছে ০.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ ১ শতাংশেরও কম।
তাহলে মহাজোটের ভুল হল কোথায়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেদর একাংশের মতে, এটা ঠিক রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। তবে এও ঠিক, বিহারে কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত করার মৌলিক দায়িত্ব স্থানীয় নেতাদের। শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপ ঘোষরা বাংলায় বিজেপির সংগঠন তৈরি করতে না পারলে যেমন নরেন্দ্র মোদীর শত চেষ্টাতেও ভোট সাফল্য আসা মুশকিল, তেমনই বিহারেও।
দ্বিতীয়, মহাজোটের শরিকদের মধ্যে সারা বছর ধরে যৌথ কর্মসূচি তথা সমষ্টিগত চেষ্টার অভাব। ভোটের সময়ে জোট, ভোট পেরোলেই ঘোঁট।
তৃতীয়ত, কংগ্রেস তাদের মুরোদের বেশি সংখ্যক আসনে লড়ার জন্য দরকষাকষি করেছে। ৬০টির বেশি আসনে লড়েছে। ততটা শক্তিও কংগ্রেসের নেই।
চতুর্থত, হায়দরাবাদ থেকে উড়ে এসে বিহারে মুসলিম ভোটে থাবা বসিয়ে বহু আসনে কংগ্রেস ও আরজেডি-র যাত্রা ভঙ্গ করেছে মিম। তা ঠেকাতে পারেননি রাহুল-তেজস্বী।
তবে দিনের শেষে গেম চেঞ্জার হয়েছে ১০ হাজার টাকার ডাইরেক্ট ট্রান্সফার। এই ভোটে সেটাই সবচেয়ে বেশি ফারাক গড়ে দিয়েছে।