সবটাই কি তাঁরই ব্যর্থতা। তাঁর প্রচারের কৌশল, তাঁর ধারাবাহিকতার অভাব, তাঁর সাংগঠনিক রণনীতি - সবই কি তাঁর ব্যর্থতা!
.jpeg.webp)
রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 14 November 2025 22:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা ভোটে (Bihar Election) আরও করুণ দশা হল কংগ্রেসের (Congress)। গত বিধানসভা ভোটে ৭০টি আসনে লড়ে ১৯টিতে জিতেছিল তারা। এবার শেষমেশ ৫টিতে জিতবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আগের তুলনায় ভোট শতাংশও কমেছে কংগ্রেসের। ৯.৪৮ শতাংশ থেকে কমে তা হয়েছে ৮.৮০ শতাংশ।
বাংলায় প্রবাদ রয়েছে, যত দোষ নন্দ ঘোষ! এবার বিহার ভোটের ফলাফল (Bihar Election Result) প্রকাশের পর সেই প্রশ্নটাই ঘুরে ফিরে উঠছে, এখানেও কি দায়ী সেই একম অদ্বিতীয়ম রাহুল ঘোষ (পড়ুন গান্ধী) (Rahul Gandhi)। সবটাই কি তাঁরই ব্যর্থতা। তাঁর প্রচারের কৌশল, তাঁর ধারাবাহিকতার অভাব, তাঁর সাংগঠনিক রণনীতি - সবই কি তাঁর ব্যর্থতা!
এবার বিহার নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটার অধিকার যাত্রা (Voters Yatra) করেছিলেন রাহুল। তাতে বিপুল সাড়া পেয়েছিলেন তিনি। এতটাই সাড়া পেয়েছিলেন যে তেজস্বী যাদবও (Tejaswhi Yadav) রাহুলের যাত্রায় সামিল হয়ে গিয়েছিলেন। তার পর দুজনে মিলে ভোট চুরির অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি (BJP) ও নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) বিরুদ্ধে। ভোট ফলাফলে দেখা গেল, শুধু সেই কৌশল দিয়েই নীতীশ কুমার-নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ঠেকানো যায়নি। বরং মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে গোটা বিহার নির্বাচনকেই আন্দোলিত করে তুলতে সফল হয়েছে এনডিএ (NDA)। রাতারাতি মহিলাদের যোগদান বেড়ে গেছে ১২ শতাংশ। তার সরাসরি সুফল পেয়েছে এনডিএ।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আরজেডি (RJD) বা কংগ্রেসের (Congress) ভোট শেয়ারে কিন্তু কোনও বড় ধস নামেনি। কংগ্রেসের ভোট মাত্র ০.৭ শতাংশ কমেছে। আরজেডির ভোট যা ছিল প্রায় তাই রয়েছে। তাদের ভোট কমেছে মাত্র ০.৩২ শতাংশ।
তাহলে রাহুলের ব্যর্থতা কোথায়? বিশ্লেষকদের মতে, বড় সমস্যা হল বিহারে কংগ্রেসের (Congress) সংগঠন বলতে আর কিছু নেই। ফলে রাহুল কেন, কোনও নেতার পক্ষেই এই সংগঠন নিয়ে বিশাল কিছু করে দেখানো সম্ভব ছিল না। রাহুল গান্ধীর বড় ভুল হল, তিনি দলের কাণ্ডারি বা চালিকাশক্তি হলেও রাজ্যে রাজ্যে তৃণমূল স্তরে কংগ্রেসের সংগঠনকে দাঁড় করাতে পারেননি। বুথে কংগ্রেসের শক্তি নেই। রাজ্য জেলা বা ব্লক স্তরে গ্রহণযোগ্য নেতা নেই। আর তাই বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে দল।
কংগ্রেস আসন বন্টন (Seat Sharing) নিয়েও ভুল করেছে বলে অনেকের মত। আসন নিয়ে টানাটানি না করে আরজেডি-কে আরও বেশি সংখ্যক আসনে লড়তে দেওয়া উচিত ছিল তাঁরা মনে করেন। কংগ্রেস জবরদস্তি ৬১ টি আসনে লড়ে সুযোগ নষ্ট করেছে। তুলনায় আরজেডিকে কিছু আসন ছেড়ে দিলে তারা আরেকটু লড়াই দিতে পারত।
আরও একটা ভুল কংগ্রেস (Congress) ও আরজেডি (RJD) দুজনেরই রয়েছে। মিম (AIMIM) তথা আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে ঠেকাতে তারা আগে থেকেই খুব বেশি কৌশলী ছিল না। অনেকটাই হালকাভাবে নিয়েছিল। তার খেসারত দিতে হয়েছে সীমাঞ্চলে। সেখানে মিম অন্তত ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর অন্তত বিশটি আসনে ভোট কেটে কংগ্রেস বা আরজেডি-র যাত্রা ভঙ্গ করেছে।
সামগ্রিক ভাবে এদিন ভোট শতাংশের ছবিটা দেখলে বোঝা যাবে মহাগঠবন্ধনের ভোট শতাংশ কিন্তু আগের থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেনি। ভরাডুবির দুটি কারণ। এক তারা আগের তুলনায় ভোট বেশি বাড়াতে পারেনি। তুলনায় ১০ হাজার টাকার খেল খেলে নীতীশ-বিজেপি ভোট বাড়িয়ে ফেলেছে অনেকটাই। তাতেই ভরাডুবি হয়েছে তেজস্বী-রাহুলের।