তদন্তে জানা গিয়েছে, এই গোটা দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হলেও, মূল ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জানত মাত্র পাঁচজন।

ধৃত ওই ৫ ব্যক্তি
শেষ আপডেট: 12 September 2025 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বিভিন্ন রাজ্যের যৌথ অভিযানে ধরা পড়া পাঁচ আইএসআইএস জঙ্গির চ্যাট (information from chat) থেকে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের দাবি, তারা একাধিক ডানপন্থী নেতাকে টার্গেট করার পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই গোটা দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হলেও, মূল ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জানত মাত্র পাঁচজন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মঘাতী জ্যাকেট এবং বোমার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল।
দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও তেলঙ্গানায় অভিযান চালিয়ে এই পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঠিক কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ধৃতদের?
দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশন থেকে ধরা পড়ে মুম্বইয়ের দুই বাসিন্দা আফতাব ও আবু সুফিয়ান। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাদের গন্তব্য ছিল মুম্বই।
আরও এক মূল অভিযুক্ত আশার দানিশকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, দানিশ ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর এবং ‘গাজওয়া’ ছদ্মনামে কাজকর্ম চালাত। এ বছর জানুয়ারিতে সে রাঁচিতে আসে এবং ছাত্র সেজে সেখানে ঘাঁটি গাড়ে। একবার বিস্ফোরক তৈরির সময় আহতও হয়েছিল সে।
মধ্যপ্রদেশের রাজগড় থেকে ধরা পড়ে কামরান কুরেশি এবং তেলঙ্গানা থেকে হজাইফ ইয়েমেনকে গ্রেফতার করা হয়।
বোমা তৈরির কেমিক্যাল, কার্তুজ-সহ বহু সামগ্রী উদ্ধার
অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক, অস্ত্রের কার্তুজ, একটি পিস্তল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ওজন মাপার যন্ত্র, বিকার সেট, সুরক্ষা গ্লাভস, রেসপিরেটরি মাস্ক, মাদারবোর্ড-সহ প্লাস্টিকের কনটেইনার, এবং তার উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তানি হ্যান্ডলার ও “খিলাফত” রিক্রুটমেন্ট মডেল
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির বিশেষজ্ঞ এবং আইএসআইএস-এর স্লিপার মডিউলের সদস্য। তাদের দায়িত্ব ছিল বোমা বানানো, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সংগঠনের শক্তি বাড়ানো। তরুণদের টানতে তারা চালাচ্ছিল “খিলাফত” নামের একটি রিক্রুটমেন্ট মডেল। গোটা চক্রের হ্যান্ডলার পাকিস্তানে অবস্থান করছে বলে ধারণা।
সূত্রের দাবি, জঙ্গিরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে।