তদন্তকারীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি, ঝাড়খণ্ড ও বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে আইএসআইএস (ISIS) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে বড় ধরনের নাশকতার ছক ভেসে উঠছে বলেই আশঙ্কা।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 10 September 2025 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে ফের সক্রিয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (ISIS)! বুধবার দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল এবং ঝাড়খণ্ড এটিএস-এর (Jharkhand ATS) যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দুই সন্দেহভাজন যুবক। রাঁচি ও দিল্লি থেকে ধরা পড়া এই দু’জনের নাম আজহার দানিশ ও আফতাব। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ হয়েছে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথিপত্র। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ISIS-এর হয়ে কাজ চালাচ্ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজহার দানিশকে বহুদিন ধরেই খুঁজছিল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুরনো একটি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে থাকলেও এতদিন সে পলাতক ছিল। অবশেষে ঝাড়খণ্ডে বিশেষ অভিযানে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। একইসঙ্গে ধরা পড়ে আফতাবও। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, দু’জনই ভারতে আইএসআইএস-এর কার্যকলাপ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। শুধু রাঁচি বা দিল্লি নয়, দেশের অন্তত চার জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জনকে জেরা করা হচ্ছে বলে খবর।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি, ঝাড়খণ্ড ও বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে আইএসআইএস (ISIS) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে বড় ধরনের নাশকতার ছক ভেসে উঠছে বলেই আশঙ্কা। ফলে গোয়েন্দারা এখনই নড়েচড়ে বসেছেন। গ্রেফতার হওয়া দানিশ ও আফতাবের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে তাঁদের নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ভারতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আইএসআই এবং আইএসআইএস ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে বলে গোয়েন্দাদের আশঙ্কা। কাশ্মীরে পহেলগাম হামলার পর একাধিক অভিযানে বহু জঙ্গিকে খতম করা গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি হুমকিমুক্ত হয়নি।
সম্প্রতি পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দেশজুড়ে যখন তল্লাশি শুরু হয়, তখনই ধরা পড়ে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের উপস্থিতি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভারতেরই নাগরিক, আবার অনেকে সরকারি পদে চাকরি করছিল। ফলে জঙ্গি নেটওয়ার্কের ভেতরে ভারতীয় যোগও উঠে আসছে।
গোয়েন্দাদের মতে, নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়েই সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসীরা ভারতে প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয়, উৎসবের মরশুমকে কেন্দ্র করে নতুন ছকও আঁটছে আইএসআই। বাংলাদেশের মাধ্যমে জাল নোট ঢুকিয়ে ভারতীয় বাজারে তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। এতে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।