২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর ৪০ জন জওয়ানের প্রাণহানির পর যে এনকাউন্টারে উমর ফারুক নিহত হয়, সেই ঘটনার রেশ এখনও তাজা।

চিকিৎসক শাহিন সইদ - আফিরা বিবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ (Delhi blast) এবং ফরিদাবাদের বিস্ফোরক উদ্ধার (Faridabad raid) মামলার তদন্তে উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক শাহিন সইদ (Doctor Shaheen Saeed) সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) কম্যান্ডারের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, বিশেষ যোগাযোগ ছিল ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার (Pulwama attack) মূলচক্রী উমর ফারুকের স্ত্রী আফিরা বিবির সঙ্গেও (Shaheen Saeed Pulwama link)।
উমর ফারুক (Umar Farooq) সম্পর্কে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাইপো। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর ৪০ জন জওয়ানের প্রাণহানির পর যে এনকাউন্টারে উমর ফারুক নিহত হয়, সেই ঘটনার রেশ এখনও তাজা।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, আফিরা বিবি এখন জইশের নতুন মহিলা শাখা ‘জমাত-উল-মোমিনাত’ (Jamaat-ul-Mominat)-এর অন্যতম মুখ। দিল্লি বিস্ফোরণের কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ ‘শুরা’-য় যোগ দেন। মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের সঙ্গে তিনিও শাহিন সইদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
ডা. শাহিন ছিলেন ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র চিকিৎসক। তাঁর গাড়ি থেকে একে-৪৭ রাইফেল-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভারতে ‘জমাত-উল-মুমিনাত’-এর শাখা গঠন এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের নিয়োগের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।
লখনউয়ের বাসিন্দা শাহিন আগে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে কাজ করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কানপুরের এক মেডিক্যাল কলেজে ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান ছিলেন। পাসপোর্ট রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) ছিলেন।
সহকর্মীদের দাবি, শাহিন প্রায়ই কাজে আসতেন না, এবং অনুপস্থিত থাকবেন সেকথা কাউকে জানাতেনও না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। তদন্তকারীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাঁর উপস্থিতি সংক্রান্ত রেকর্ড চেয়েছেন।
শহিন বিয়ে করেছিলেন চিকিৎসক ডা. হায়াত জাফরকে। তবে ২০১২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই সন্তান বাবার সঙ্গেই থাকে। ডা. জাফর জানিয়েছেন, ২০১২ সালের পর থেকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই।
তিনি বলেন, “শাহিন কোনওদিনই ধার্মিক ছিলেন না। বরং বেশ খোলা মানসিকতার মানুষ ছিলেন। বিদেশে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে পাকাপাকিভাবে থাকার কথাও ভাবতেন। তা নিয়েই আমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়। তারপর আমরা আলাদা হয়ে যাই। আমার সন্তানরাও এখন আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না।”
শাহিনের বাবা অবশ্য মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহিনের সঙ্গে আরও দুই চিকিৎসক, ডা. মুজাম্মিল এবং ডা. উমর, কাজ করতেন। শহিন ও মুজাম্মিল এখন পুলিশের হেফাজতে। তবে গত সোমবার দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িতে যে বিস্ফোরণ ঘটে, তাতেই ডা. উমর মারা যান। ডিএনএ পরীক্ষায় তদন্তকারীরা তা নিয়ে নিশ্চিতও হয়েছেন।