শাহিন সাইদ আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপিকা হিসেবে কাজ করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করেছেন।

জাফর এবং শাহিন সাইদ
শেষ আপডেট: 12 November 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালকেল্লা বিস্ফোরণ (Red Fort Blast) মামলার তদন্তে গ্রেফতার (Arrest) হয়েছেন এক মহিলা চিকিৎসকও (Woman Doctor)। এই বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় পাকড়াও করা হয়েছিল লখনউয়ের (Lucknow) বাসিন্দা চিকিৎসক শাহিন সাইদকে (Dr. Shaheen Saeed)। তার সম্পর্কে এবার মুখ খুলেছেন শাহিনের প্রাক্তন স্বামী (Ex Husband) হায়াত জাফর। তাঁর দাবি - শাহিন মোটেই ধর্মপ্রাণ ছিলেন না, বরং বেশ উদার মানসিকতার মানুষ ছিলেন।
শাহিন সাইদ আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Al Falah University) অধ্যাপিকা হিসেবে কাজ করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ওঁর আচরণ অনেক সময় অস্বাভাবিক মনে হত। অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতেন। তাঁর সঙ্গে অনেক অচেনা মানুষ দেখা করত। অভিযোগও করা হয়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে।” এদিকে শাহিনের প্রাক্তন স্বামী কিছুটা উল্টোই বলেছেন।
পেশায় চিকিৎসক জাফর জানান, তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce) হয় ২০১২ সালে। তাঁর কথায়, “শাহিন চেয়েছিলেন আমরা পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়া (Australia) বা ইউরোপে (Europe) গিয়ে বসবাস করি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই আমরা আলাদা হয়ে যাই।’’ তিনি জানান, তাঁদের দু’টি সন্তান রয়েছে, যারা বর্তমানে তাঁর সঙ্গেই থাকে।
তদন্তকারীদের দাবি, শাহিনই ভারতে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) নারী শাখা ‘জামাত উল-মোমিনাত’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। পাকিস্তানে সংগঠনটির দায়িত্বে রয়েছেন জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। শাহিন মূলত লখনউয়ের দলিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, শাহিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক (Jammu Kashmir Doctor) মুজাম্মিল গনাই, যিনি ফরিদাবাদেরই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাড়া করা দুটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ - যা লালকেল্লা বিস্ফোরণের মূল উপাদান বলে মনে করা হচ্ছে।
শাহিনের গ্রেফতারির পর তাঁর বাবা সায়েদ আহমদ আনসারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না আমার মেয়ে এমন কাজে জড়িত থাকতে পারে।’’ তিনি আরও জানান, শাহিনের তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। আনসারির কথায়, “আমার বড় ছেলে শোয়েব আমার সঙ্গে থাকে। ছোট ছেলে পারভেজের বাড়িতে আজ সকালেই তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। শাহিনের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল মাস খানেক আগে।” ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) ও অ্যান্টি টেরর স্কোয়াড (ATS)-এর টিম ইতিমধ্যেই শাহিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন মনে করছেন, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাটির সঙ্গে দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের যোগ রয়েছে। সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে। এখন শাহিনের গাড়ি ও ফোনের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।